মালদ্বীপে অভিবাসী কর্মীদের বেতন ব্যাংকে দেয়ার নির্দেশ

মালদ্বীপ সরকারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের দেশটির আইনি ও আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের শ্রম অধিকার সুরক্ষিত করা এবং স্থানীয় মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ওমর ফারুক, মালদ্বীপ

মালদ্বীপে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিকদের বেতন স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

দেশটিতে অভিবাসী নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালার তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, নিয়োগকর্তাকে প্রত্যেক অভিবাসী কর্মীর চুক্তিবদ্ধ বেতন ও অন্যান্য পারিশ্রমিক মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটি (এমএমএ) অনুমোদিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংকে কর্মীর নামে খোলা অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। সংশোধিত বিধিমালা প্রকাশের ৩০ দিন পর এ বিধান কার্যকর হবে।

এর আগে কর্মসংস্থান আইনের সংশোধনীতে অভিবাসী কর্মীদের বেতন ও ভাতা স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতে ব্যর্থ নিয়োগকর্তাদের জরিমানার বিধান রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ওই জরিমানা আদায় স্থগিত করা হয়। এর অন্যতম কারণ ছিল, অবৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, অভিবাসী কর্মীদের বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধের বাধ্যবাধকতা কার্যকর হলে শ্রমিকদের আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে। একই সাথে দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৩ শতাংশ রেমিট্যান্স কর আদায় এবং আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণও সহজ হবে।

মালদ্বীপ সরকারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে অভিবাসী কর্মীদের দেশটির আইনি ও আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনার পাশাপাশি তাদের শ্রম অধিকার সুরক্ষিত করা এবং স্থানীয় মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশটিতে কর্মরত কিছু অভিবাসী মার্কিন ডলারে বেতন পেলেও অধিকাংশই স্থানীয় মুদ্রায় পারিশ্রমিক পান। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিবাসীদের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও স্থানীয় মুদ্রাবাজারের নানা অসংগতি ডলারের অবৈধ লেনদেন ও কালোবাজারকে প্রভাবিত করছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব লেনদেনের ওপর নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হবে।

সম্প্রতি মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহসান স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, দেশটিতে কর্মরত অভিবাসীদের ৯৮ শতাংশের তথ্য সংগ্রহ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে। পাশাপাশি অভিবাসী কর্মীদের বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের দায়বদ্ধতাও বাড়বে।