পাকিস্তানে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থনে কর্মকাণ্ড চালানো আট সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যকারী বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তাদের বিরুদ্ধে ইমরান খানের সমর্থনে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) তাদের অনুপস্থিতিতে দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে এ রায় দেয়া হয়।
২০২৩ সালের ৯ মে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের পর দায়ের করা মামলাগুলোর ভিত্তিতে এ সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন ইমরান খানকে গ্রেফতার করার পর তার সমর্থকেরা সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর থেকে সরকার ও সামরিক বাহিনী ইমরান খানের দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন অভিযান শুরু করে। উসকানি দেয়া ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগে শত শত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সামরিক বিচারের আওতায় আনা হয়।
রায়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড পাকিস্তানি আইনে ‘সন্ত্রাসবাদের আওতার মধ্যে পড়ে’ এবং তাদের অনলাইন কনটেন্ট সমাজে ‘ভয় ও অস্থিরতা’ ছড়িয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্তদের বেশিভাগই পাকিস্তানের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিচার চলাকালে আদালতে হাজির হননি।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা থেকে ইউটিউবার হওয়া আদিল রাজা ও সৈয়দ আকবর হুসেইন, সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খান, সাবির শাকির ও শাহীন সেহবাই, মন্তব্যকারী হায়দার রাজা মেহদি ও বিশ্লেষক মঈদ পীরজাদা।
২০২৩ সালে সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) বলেছিল, এসব তদন্তগুলো সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের শামিল। সিপিজের এশিয়া কর্মসূচির সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব তদন্ত বন্ধ করতে হবে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে চলমান ভয়ভীতি ও সেন্সরশিপ বন্ধ করতে হবে।
সূত্র : রয়টার্স



