ভারতজুড়ে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ পার্টির

ভারতজুড়ে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে যে আশ্বাস দিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তা থেকে সরে আসছে কেন্দ্র সরকার। এখানে চুক্তিভঙ্গ হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে আন্দোলনকারীরা
ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে আন্দোলনকারীরা |সংগৃহীত

ভারতে ছাত্র-আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে যে আশ্বাস দিয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তা থেকে সরে আসছে কেন্দ্র সরকার। এখানে চুক্তিভঙ্গ হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়া ১৮ বছরের কম বয়সী এবং কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই- এমন শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন রাজ্যে সিজেপির আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত কোনো জোরপূর্বক পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।

তবে সিজেপির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে সরকারকে আগের মামলা এবং তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই নির্দেশ দেশের জন্য উদ্বেগজনক।

সিজেপি বলেছে, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্র সরকার আশ্বাস দিয়েছিল, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং কোনো শিক্ষার্থীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হয়রানি করা হবে না। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই তারা দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল। সেই আশ্বাস না পেলে আন্দোলন প্রত্যাহার করত না।

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, কেন্দ্র এবং বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো আদালতের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে পৃথক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যেতে পারে।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই বৃহৎ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু হবে। ছাত্রদের টার্গেট করা এবং হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

সিজেপি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকার প্রতিশ্রুতি না রাখলে তাদের সামনে দেশব্যাপী আন্দোলন ফের শুরু করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।

তাদের দাবি, দেশের যুবসমাজ সরকারের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখেছিল, সেই বিশ্বাস ভঙ্গ করা হলে ভারতের রাস্তাই আবার তরুণদের প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। পরে শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুকের ২৬ দিনের অনশন সেই আন্দোলনে নতুন গতি আনে। পরে আন্দোলন বিহারসহ একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আত্মহত্যাকারীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।

সূত্র: আজতাক