এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ জানালো তদন্তকারীরা

প্রতিবেদন অনুসারে, বিমানের জ্বালানি সরবরাহের যে দুটি সুইচ আছে দুটিই এক সেকেন্ডের কম সময়ের ব্যবধানে চালু (রান) থেকে বন্ধ (কাট অফ) হয়ে যায়। ওই সময় বিমানটির গতি ১৮০ নটে পৌঁছেছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদে দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার দেখা যাচ্ছে
১২ জুন ভারতের আহমেদাবাদে দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার দেখা যাচ্ছে |সংগৃহীত

ভারতের আহমেদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার আগ মুহূর্তে বিমানটির জ্বালানি সরবরাহের সুইচ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

তদন্তকারীরা বিমানের ব্ল্যাকবক্স থেকে এই তথ্য খুঁজে বের করতে সমর্থ হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিমানের জ্বালানি সরবরাহের যে দুটি সুইচ আছে দুটিই এক সেকেন্ডের কম সময়ের ব্যবধানে চালু (রান) থেকে বন্ধ (কাট অফ) হয়ে যায়। ওই সময় বিমানটির গতি ১৮০ নটে পৌঁছেছিল।

ব্ল্যাকবক্স থেকে উদ্ধার হওয়া অডিও থেকে জানা গেছে, সে সময় এক পাইলট অপর পাইলটকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কেন জ্বালানি সরবরাহের সুইচ বন্ধ করেছেন। তখন অপর পাইলট জানান, তিনি সুইচ বন্ধ করেননি।

এরপর সুইচগুলো আবারো চালু হয়। ওই সময় ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহও শুরু হয়। কিন্তু এর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এর আগে ইঞ্জিন সচল রাখার জরুরি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছিল।

বোয়িং ৭৮৭-এ জ্বালানি সরবরাহের সুইচটি কাটঅফ নামে পরিচিত। এটি দুই পাইলটের আসনের মাঝে এবং থ্রোটল লেভারের নিচে থাকে। এগুলো একটি ধাতব দণ্ড মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে এবং ভুলক্রমে যেন বন্ধ না হয়ে যায় তাই সেখানে লকিং সিস্টেম রাখা আছে।

তদন্তকারীরা আরো উল্লেখ করেছেন, বিমান উড্ডয়নের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা ছিল না। প্রতিবেদন অনুসারে, বিমানের জ্বালানি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সন্তোষজনক মানের বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং উড্ডয়নের পথের আশপাশে কোনও উল্লেখযোগ্য পাখির কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়নি।

ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হন। গত ১২ জুন বিমানটি একটি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রাবাসে আছড়ে পড়লে সেখানেও বহু মানুষ হতাহত হন। অপরদিকে বিমানটির ২৪২ আরোহীর একজন বাদে বাকি সবাই প্রাণ হারান।

সূত্র : সিএনএন