বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আদমশুমারি ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশটি মোবাইলভিত্তিক সফটওয়্যার সিস্টেম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এ প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
একই সাথে দেশটির স্বাধীনতা লাভের পর, এবারই প্রথমবারের মতো নাগরিকদের জাতিসত্তা বা বর্ণ সম্পর্কিত তথ্য নিবন্ধন করা হবে।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই বিষয়টি নিয়ে সর্বশেষ জরিপ হয় ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৩১ সালে।
২০ দিনের এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম আগামী ১০ নভেম্বর দক্ষিণাঞ্চলীয় কর্ণাটক রাজ্যের কিছু এলাকায় শুরু হবে।
এতে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা ও স্ব-নিবন্ধন পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে, যা শুমারিতে প্রচলিত কাগজভিত্তিক পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক-সংবলিত প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনের কার্যকারিতা ও দক্ষতা যাচাই করা।
আরো বলা হয়, এটি ভারতের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল আদমশুমারির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী শুমারি প্রচলিত কাগজভিত্তিক তালিকা পদ্ধতিকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিস্থাপন করবে।
তবে এ উদ্যোগ ভারতের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জেরও। ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দেশটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং বা ইভিএমে ভোট গ্রহণ হয়। মোট সাত দফায় ছয় সপ্তাহ ধরে সেই ভোট গ্রহণ চলে। কিন্তু দেশের জনসংখ্যার একক চিত্র পেতে এবং দ্বৈত গণনা এড়াতে আদমশুমারি অবশ্যই একই সময়ে সম্পন্ন করতে হবে।
মূল গণনা শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে। তবে তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই উঁচু পার্বত্য অঞ্চল, যেমন- হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মিরে আদমশুমারি শুরু হবে ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে।
ভারতের সমাজব্যবস্থায় জাতিসত্তা এখনো সামাজিক মর্যাদা নির্ধারণে শক্তিশালী উপাদান এবং এতে সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।
দেশটির মোট ১৪০ কোটি মানুষের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ এমন সম্প্রদায়ের, যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে।
হাজার বছরের পুরোনো এই সামাজিক ব্যবস্থা হিন্দুধর্মালম্বীদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী ভাগ করেছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অতীতে জাতিসত্তাভিত্তিক আদমশুমারির বিরোধিতা করেছিল। এটি সামাজিক বিভাজন আরো বাড়াবে বলে যুক্তি দিয়েছিল তারা। তবে গত মে মাসে দলটি নতুন জরিপের পক্ষে সমর্থন দেয়।
অন্যদিকে এই জরিপের সমর্থনকারীরা মনে করেন, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পিত সামাজিক ন্যায়বিচার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জাতিগত বিস্তারিত তথ্য অপরিহার্য। যাতে করে উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে কোটার বরাদ্দ থাকে।
বিগত সরকারগুলো প্রশাসনিক জটিলতা ও সম্ভাব্য সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কায় জাতিসত্তাভিত্তিক তথ্য হালনাগাদের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
অন্যদিকে, ২০১১ সালে আদমশুমারির সাথে জাতিসত্তা জরিপ পরিচালনা করা হলেও সেটি প্রকাশ করা হয়নি।
কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা জানান, শুমারির তথ্যগুলো ত্রুটিপূর্ণ ছিল।



