ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত বৃদ্ধের বয়স ৮৪ বছর এবং তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।
বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের এ রাজ্যজুড়ে কোভিড সংক্রমণ আবারো কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন অবস্থায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশটির রাজ্য সরকার। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
রোববার (২৫ মে) ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে ৮৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে এবং শনিবার তার কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। নানা জটিল রোগে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে ১৩ মে বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং ১৭ মে তিনি মারা যান।
মৃত্যুর আগে নেয়া কোভিড পরীক্ষার ফল শনিবার পাওয়া যায়, যেখানে দেখা গেছে তিনি করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে বর্তমানে কোভিড সংক্রমণ আবারো কিছুটা বাড়ছে। শনিবার পর্যন্ত কর্ণাটকে মোট ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ জনই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা।
এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিনেশ গুণ্ডু রাও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান এবং গণমাধ্যমকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার এবং পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জন না করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ করছি। কারণ মিডিয়ায় রিপোর্টে কোভিডের সংক্রমণ বাড়ছে দেখলে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশের রাজ্য কেরালায় সংক্রমণ বাড়লেও সেটি মূলত বেশি সংখ্যক টেস্ট করার ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রের নির্দেশিকাগুলোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নজরদারি যথেষ্ট এবং বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো প্রয়োজন নেই। রাজ্যে বর্তমানে কোভিড সংক্রান্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করতে পারেন।
সাম্প্রতিক সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে ভাইরাসের নতুন রূপ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী দিনেশ রাও। তার মতে, এটি জেএন.১ সাব-ভ্যারিয়েন্টের হতে পারে। এর আগেও সিঙ্গাপুর, হংকং ও মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশে এই সাব-ভ্যারিয়েন্ট দেখা গেছে। তবে সেই দেশগুলোতেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি।



