মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর আরো ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর ভারত জানিয়েছে, অতিরিক্ত শুল্ক অন্যায়, অন্যায্য ও অযৌক্তিক এবং তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ভারতের রফতানি পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। যা চীনের ওপর শুল্কের চেয়ে ২০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ওপর শুল্কের চেয়ে ৩১ শতাংশ বেশি। এই শুল্ক আগামী ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ মোট শুল্ক এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রফতানির খরচ অনেক বেশি হবে। এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের টেক্সটাইল, গাড়ির যন্ত্রাংশ, টায়ার, কেমিক্যাল, কৃষি-রাসায়নিক ও হীরার মতো রফতানি পণ্যগুলোর ওপর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা আরো বাড়তে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলাতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
শুল্ক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা ইতোমধ্যেই এই বিষয়গুলোতে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানি বাজারভিত্তিক ও ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ অন্যান্য বেশ কয়েকটি দেশও তাদের জাতীয় স্বার্থে এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আমরা আবারো জোর দিয়ে বলছি, এ ধরনের পদক্ষেপ অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। ভারত জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’
এর আগে ভারত জানিয়েছিল, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র নিজেই রাশিয়া থেকে আমদানি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছিল। এমনকি, ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে রাশিয়ার বাণিজ্যেও কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।



