ভারতে বিমান দুর্ঘটনা

বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানের ক্যাপ্টেন জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় সহপাইলট (ফার্স্ট অফিসার) বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি ওড়াচ্ছিলেন। তিনি তার থেকে বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেনকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি উড্ডয়নের পরে জ্বালানির সুইচগুলো ‘কাট-অফ’ অবস্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত হওয়া বিমান
এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত হওয়া বিমান |সংগৃহীত

ভারতের আহমেদাবাদে গত মাসে বিধ্বস্ত হওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার ব্ল্যাক-বক্স রেকর্ডিং থেকে জানা গেছে, বিমানটির ক্যাপ্টেন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাট থেকে উড্ডয়নের পর জ্বালানি সুইচ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তদন্তের বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়নের উদ্ধৃতি দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) আনাদোলু অ্যাজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সে সময় সহপাইলট (ফার্স্ট অফিসার) বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি ওড়াচ্ছিলেন। তিনি তার থেকে বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেনকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি উড্ডয়নের পরে জ্বালানির সুইচগুলো ‘কাট-অফ’ অবস্থানে সরিয়ে নিয়েছিলেন।

তদন্তের প্রতিবেদন অনুসারে, ঘটনার সময় ফার্স্ট অফিসার বিস্ময় ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখন ক্যাপ্টেন বেশ শান্ত ছিলেন।

১২ জুনের ওই দুর্ঘটনায় ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে ২৪১ জনই নিহত হন। যাত্রীদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫৩ জন ব্রিটিশ, সাতজন পর্তুগিজ এবং একজন কানাডিয়ান ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ভূমিতে বিস্ফোরণে ১৯ জন নিহত হন। বিমানটি পাশের একটি মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে আরো ১৯ জন নিহত হন।

সেদিন বিমানটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন পাইলট ক্যাপ্টেন সুমিত সাভারওয়াল এবং ফার্স্ট অফিসার ক্লাইভ কুন্দার।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনাকারী মার্কিন পাইলটরা জানান, কুন্দার সক্রিয়ভাবে বিমানটি চালাচ্ছিলেন। তিনি সম্ভবত নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পর্যবেক্ষণকারী ক্যাপ্টেন সাভারওয়ালেরই সুইচগুলো কাট-অফ অবস্থানে নেয়ার সুযোগ ছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এক সেকেন্ডের ব্যবধানে সুইচগুলো বন্ধ করা হয়েছিল এবং প্রায় দশ সেকেন্ড পরে আবার তা চালু করা হয়েছিল। এর কিছুক্ষণ পরেই আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

তবে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ‘যাচাইবিহীন প্রতিবেদনের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সাধারণ জনগণ এবং গণমাধ্যমকে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে তারা এমন কোনো অনুমানভিত্তিক বর্ণনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

এএআইবি আরো জানায়, তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার মূল কারণসহ সংশ্লিষ্ট সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।