লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে নতুন রেকর্ড গড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে শুরু করে ৯টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত বক্তৃতা দেন। মোট ১ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট অর্থাৎ ১০৩ মিনিট কথা বলেন, যা স্বাধীনতা দিবসে যেকোনো প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে দীর্ঘ বক্তব্য।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ৯৮ মিনিট বক্তব্য রেখেছিলেন, ২০১৫ সালে ৮৮ মিনিটের ভাষণে প্রথমবার দীর্ঘ বক্তৃতার রেকর্ড গড়েন। এবার সেসব রেকর্ড ভেঙে দিলেন নিজেই। সাথে ভাঙলেন ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ডও।
মোদি এ নিয়ে ১২তম বার লালকেল্লা থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দিলেন। টানা ১৭টি বক্তৃতা দিয়ে এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন নেহরু।
তথ্য বলছে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার বছরে জওহরলাল নেহরু ৭২ মিনিট বক্তৃতা দেন, তৎকালীন সময়ে সেটিই ছিল নজির। ২০১৪ সালে লালকেল্লা থেকে মোদির প্রথম ভাষণ ছিল ৬৫ মিনিটের, ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ মিনিট। ২০১৭ সালে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, মাত্র ৫৬ মিনিটের বক্তৃতা দেন তিনি। সেই বছর ‘মন কি বাত’-এ জানান, লম্বা বক্তৃতা নিয়ে চিঠি পেয়েছেন, তাই ছোট রাখার চেষ্টা করেছেন।
২০১৮ সালে মোদির ভাষণ ছিল ৮৩ মিনিটের। ২০১৯ সালে প্রায় ৯২ মিনিট কথা বলেন তিনি। ২০২০ সালে ৯০ মিনিট, ২০২১ সালে ৮৮ মিনিট, ২০২২ সালে ৭৪ মিনিট এবং ২০২৩ সালে ফের ৯০ মিনিট, এই ছিল সাম্প্রতিক সময়ের পরিসংখ্যান।
এদিকে সবচেয়ে ছোট বক্তৃতার রেকর্ড রয়েছে ১৪ মিনিটের। ১৯৫৪ সালে নেহরু এবং ১৯৬৬ সালে ইন্দিরা গান্ধী, এই রেকর্ড গড়েন।
মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ১০ বার স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ দেন, বেশিরভাগই ৫০ মিনিটের আশপাশে। ২০০৫ ও ২০০৬, দু’বর্ষেই ৫০ মিনিট, বাকি বছরে ৩২ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে।
২০১২ ও ২০১৩ সালে মনমোহনের ভাষণ ছিল যথাক্রমে ৩২ ও ৩৫ মিনিটের, অটল বিহারী বাজপেয়ীর ২০০২ ও ২০০৩ সালের ভাষণ ছিল ২৫ ও ৩০ মিনিট।
এ দিনের ভাষণে মোদি ঘোষণা করলেন ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’র। ১ লাখ কোটি টাকার এই প্রকল্প কার্যকর হচ্ছে অবিলম্বে। বেসরকারি ক্ষেত্রে প্রথম চাকরি পাওয়া যুবকরা কেন্দ্রের তরফে পাবেন ১৫ হাজার টাকা; উপকৃত হবেন ৩.৫ কোটিরও বেশি মানুষ।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আগে জানিয়েছিল, এই ‘এমপ্লয়মেন্ট-লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (ইএলআই) স্কিমের লক্ষ্য দুই বছরে ৩.৫ কোটির বেশি নতুন চাকরি তৈরি করা, যার মধ্যে ১.৯২ কোটি হবেন একেবারে প্রথমবার কর্মজীবনে আসা। প্রকল্পের নাম ‘বিকশিত ভারত’ উদ্যোগের সাথেই সাযুজ্যপূর্ণ।
যোজনার ‘পার্ট–এ’-তে প্রথমবারের কর্মীদের জন্য ইপিএফ মজুরির সমপরিমাণ সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা দুই কিস্তিতে দেয়া হবে। মাসিক বেতন ১ লাখ টাকার মধ্যে হলে সুবিধা মিলবে। চাকরিতে টানা ছ’মাস হলে প্রথম কিস্তি, ১২ মাস পূর্ণ করে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি সম্পন্ন করলে দ্বিতীয় কিস্তি। সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়তে প্রণোদনার একটি অংশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আমানতে রাখা হবে। সব পেমেন্ট হবে আধার-ব্রিজ পেমেন্ট সিস্টেমে ডিবিটি মারফত।
কৃষক, পশুপালক ও মৎস্যজীবীদের স্বার্থে কেন্দ্র আপস করবে না, এই বার্তা দেন এদিন দেন প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, কৃষকদের ক্ষতি হয় এমন কোনো নীতির বিরুদ্ধে তিনি ‘দেয়ালের মতো’ দাঁড়িয়ে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, ভারত–মার্কিন প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়ে আলোচনায় কৃষি ও দুগ্ধ ক্ষেত্রে শুল্কছাড় চাইছে আমেরিকা। একইসাথে মার্কিন প্রশাসন ভারতের পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৭ অগস্ট থেকে তা ৫০ শতাংশে তুলেছেন বলে জানানো হয়েছে; বর্তমানে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বলবৎ আছে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুপালকদের স্বার্থে কোনো আপস নয়। ভারতের মানুষকে রক্ষা করতে আমি প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছি।’
সূত্র : দ্য ওয়াল



