হঠকারিতা দেখালে ফল হবে সুদূরপ্রসারী ও যন্ত্রণাদায়ক : হুঁশিয়ারি পাকিস্তান সেনাপ্রধানের

আসিম মুনির ভবিষ্যতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো ‘হঠকারিতা’ দেখালে তার জবাব অত্যন্ত কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির |সংগৃহীত

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো ‘হঠকারিতা’ দেখালে তার ফল হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং যন্ত্রণাদায়ক। শত্রুপক্ষকে এভাবেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

রোববার রাওয়ালপিণ্ডির সেনা সদর দফতরে (জিএইচকিউ) ভারতের সাথে গত বছরের যুদ্ধের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এই হুংকার দেন। গত বছর অনুষ্ঠিত ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে ইসলামাবাদ ‘মারকা-ই-হক’ বা সত্যের লড়াই নামে অভিহিত করে থাকে।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান মুনির বলেন, আমাদের শত্রুদের জেনে রাখা উচিত, পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে যুদ্ধের প্রভাব শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তা হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং যন্ত্রণাদায়ক। গত বছরের মে মাসে ভারতের আগ্রাসনের মুখে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও জনগণ যে জাতীয় ঐক্যের পরিচয় দিয়েছিল, তা ছিল এক আদর্শিক লড়াই।

এতে মিথ্যার পরাজয় আর সত্যের জয় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের সেই সঙ্ঘাতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভারত সবসময়ই তথাকথিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ চালিয়ে পাকিস্তানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তবে পাকিস্তান প্রতিবারই তাদের সেই পুরনো চিন্তাধারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, যুদ্ধের সময় পাকিস্তান ভারতের ভেতর ২৬টির বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছিল। এরপর পরাজিত ভারত আন্তর্জাতিক শক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আবেদন করে। আঞ্চলিক শান্তির কথা ভেবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল।

আসিম মুনির আফগানিস্তানের প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ভারতের নির্দেশে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়া বন্ধ করতে হবে।

পাশাপাশি কাশ্মির ইস্যুতে তিনি জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাব অনুযায়ী সমাধানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। আধুনিক যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান এখন সাইবার যুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তিতে নিজেদের আরো শক্তিশালী করছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্যের কথা তুলে ধরে সৌদি আরবের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন।

সূত্র : ডন