বিমান বিধ্বস্তের আগে পাইলটের শেষ বার্তা ‘মে ডে কল’ আসলে কী?

এটা আসলে ফরাসি একটি শব্দবন্ধ। maider-এর মানে হলো, আমাকে সাহায্য করো। এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯২০ সালে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান গুজরাটের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে সবে উড়েছিল। টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ল সেটি। ২৪২ জন যাত্রী ছিল লন্ডনগামী ওই বিমানে।

ভেঙে পড়ার আগে এটিসির কাছে ‘মে ডে কল’ পাঠিয়েছিলেন পাইলট। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে এসেছিল সেই কল। এরপরই বিমানের সাথে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপরই ভেঙে পড়ে বিমানটি।

‘মে ডে কল’ আসলে কী?
এনডিটিভি জানায়, ‘মে ডে কল’ হলো- আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিপদের সিগন্যাল। মূলত প্রাথমিকভাবে এটা বিমানের ক্ষেত্রে ও নৌপথে ব্যবহার করা হয়। মূলত বড় কোনো বিপদে পড়লে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে এই ‘মে ডে কল’ করা হয়।

এটা আসলে ফরাসি একটি শব্দবন্ধ। maider-এর মানে হলো, আমাকে সাহায্য করো। এটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯২০ সালে। এটা বর্তমানে একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল বলে ধরা হয়। সাধারণত তিনবার এই কল করা হয়। মে ডে, মে ডে, মে ডে। যাতে ভালোভাবে এটিসি বুঝতে পারে সে কারণেই এই ‘মে ডে কল’ করা হয়।

কে এই ‘মে ডে কল’টি ইস্যু করেন?
বিমানের ক্ষেত্রে পাইলট ও জাহাজের ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেন এই মে ডে কল ইস্যু করেন। মূলত তার হাতেই এই বিমানের পরিচালনার ভার থাকে। তিনি যদি বুঝতে পারেন যে বড় কোনো দুর্ঘটনার মুখে পড়তে চলেছে বিমান, তখন এই ধরনের কল করা হয়।

সাধারণ নানা ধরনের বিপদের মুখে পড়ে এই ধরনের কল করা হয়। ইঞ্জিনের যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে, যদি বিমান আকাশে থাকার সময় আগুন ধরে যায়, যদি বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তবে এই ধরনের কল করা হয়।

মূলত সাহায্য চেয়ে এই ধরনের কল করা হয়। রেডিওর মারফৎ এই কল করা হয় বিমান থেকে এটিসির কাছে। কিছু ক্ষেত্রে কাছাকাছি যে বিমানটি রয়েছে সেই বিমানও প্রয়োজনে এটিসির কাছে এই ধরনের কল করে।

এই মে ডে কল পাওয়ার পরই সতর্ক হয়ে যায় এটিসি। বিমান তার লোকেশন জানিয়ে দেয়। আপৎকালীন সব ব্যবস্থা শুরু করে দেয় এটিসি।