জাতিসঙ্ঘে ভারতের সিন্ধু পানিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলল পাকিস্তান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের আগ্রাসী ভঙ্গি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং সিন্ধু পানিচুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার ও জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং |সংগৃহীত

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমন ইয়াংয়ের সাথে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তিনি ভারতের সিন্ধু পানিচুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সাথে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ইরান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক উদ্বেগসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও টেকসই উন্নয়ন প্রচেষ্টাসহ জাতিসঙ্ঘের অ্যাজেন্ডায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বহুপক্ষীয়তার প্রতি দেশটির দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বৈশ্বিক শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণে জাতিসঙ্ঘকে সংস্কারের আহ্বান জানান।

ইসহাক দার জাতিসঙ্ঘের ভবিষ্যৎ চুক্তি ও ইউএন৮০ উদ্যোগে সাধারণ পরিষদের সভাপতির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং এই প্রচেষ্টাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। যাতে জাতিসঙ্ঘ আরো কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হয়। এছাড়াও বৈঠকে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার, বিশেষত পরিষদকে আরো গণতান্ত্রিক ও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় তিনি ভারতের আগ্রাসী ভঙ্গি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং সিন্ধু পানিচুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক মনোযোগ দাবি করেন, বিশেষ করে ভারতের দখল করা জম্মু ও কাশ্মিরে অবৈধ পদক্ষেপ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে।

তিনি পাকিস্তান-ভারতের সব বিরোধ আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং জাতিসঙ্ঘ সনদের আলোকে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানান।

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিও সাধারণ পরিষদের কাঠামোর মধ্যে শান্তি, উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলকতাকে এগিয়ে নেয়ার প্রতি তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।