মিয়ানমারে জান্তা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশটির সেনাবাহিনী-সমর্থিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির সেনাবাহিনী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এর প্রায় পাঁচ বছর পর গতকাল রোববার দেশটিতে নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জান্তা সরকার জনগণের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে।
তবে নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। গণতন্ত্রকামী পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মতে, এই নির্বাচন মিয়ানমারে সামরিক শাসনকে আরো পোক্ত করার একটি অপকৌশল মাত্র।
রাজধানী নেপিদোতে এক দলীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, সারাদেশ থেকে পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্তা বাহিনীপন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জিতেছে।
দেশটির ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি। আগামী ১১ ও ২৫ জানুয়ারি আরো দুই ধাপে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার কয়েক মাস পর কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল করে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সু চি বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন এবং তার দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে রোববার ভোট দেয়ার পর সাংবাদিকদের জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আমরা এটি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি। এটি সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। তাই আমরা আমাদের নাম কলঙ্কিত হতে দিতে পারি না।’
সূত্র : এএফপি



