কানাডার সাথে টানাপোড়েন, জি-৭ সম্মেলনে যাচ্ছেন না মোদি

ভারত ও কানাডার সম্পর্ক মূলত চূড়ান্ত অবনতির দিকে মোড় নেয় ২০২৩ সালে। সে সময় কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেন, খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি |সংগৃহীত

এবারের জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কানাডার অ্যালবার্টা প্রদেশে। কিন্তু উত্তর আমেরিকার এ দেশটির সাথে ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্মেলনে যোগদানের সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র।

মঙ্গলবার (৩ জুন) ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এবারের জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা খুব কম। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম তিনি এ ধরনের আয়োজনে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত জি-৭ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ইস্যু, যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, কানাডা এখনো পর্যন্ত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে শীর্ষ সম্মেলনে অংশ গ্রহণের জন্য কোনো আমন্ত্রণ পাঠায়নি। তবে আমন্ত্রণ এলেও মোদি এ সফরে যেতেন না। কারণ ভারত-কানাডা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে এতটাই খারাপ অবস্থায় রয়েছে যে এমন সফরের আগে ব্যাপক প্রস্তুতি ও পদক্ষেপের প্রয়োজন হতো।

ভারত ও কানাডার সম্পর্ক মূলত চূড়ান্ত অবনতির দিকে মোড় নেয় ২০২৩ সালে। সে সময় কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেন, খালিস্তানপন্থী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জারের হত্যাকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে।

তবে এপ্রিল মাসে কানাডার সংসদীয় নির্বাচনে লিবারেল পার্টির নেতা মার্ক কার্নির জয় দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের আশা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু নয়াদিল্লির মূল্যায়ন অনুযায়ী, কানাডার মাটিতে খালিস্তানপন্থীদের কার্যক্রম নিয়ে দেশটির নতুন সরকার এখনো ভারতের উদ্বেগ দূর করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি।

এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে এখনো কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোমাত্রায় ফিরিয়ে আনা হয়নি। ভারত ২০২৩ সালের অক্টোবরে কানাডায় ভারতীয় হাইকমিশনার ও পাঁচ কূটনীতিককে দেশে ফিরিয়ে নেয় এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডারও সমানসংখ্যক কূটনীতিক বহিষ্কার করে।

ভারতের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ’কানাডায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের জন্য অনেক পরিশ্রম ও প্রস্তুতির দরকার হতো, যা এখনকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থার আলোকে সম্ভব নয়।’

আরো একজন ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, ‘নিরাপত্তা বিষয়টিও’ উদ্বেগের বিষয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু যোগাযোগ হয়েছে এবং উভয়পক্ষ নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের বিষয়েও ভাবছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নরেন্দ্র মোদি হিরোশিমায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে গিয়েছিলেন। এর আগেও তিনি ইতালি, জার্মানি ও অন্যান্য সম্মেলনেও উপস্থিত ছিলেন। গত বছর ইতালির সভায় তিনি আউটরিচ সেশনে অংশ নেন।

বর্তমানে জি-৭-এর সভাপতি কানাডা। সংগঠনটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপান রয়েছে। এবার আয়োজক হিসেবে সম্মেলনের আয়োজন করছে কানাডা।