নেপালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় নিহত ৩, কারফিউ জারি

সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সুনসারি, সিরাহা, সারলাহি, পারসা ও জনকপুর জেলায় কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভ করার সময় গণেশ যাদব নামে আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

নেপালের দক্ষিণাঞ্চলের ভারতীয় সীমান্তবর্তী সুনসারি জেলায় হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গত রোববার (২৬ জুলাই) রাতে সুনসারি জেলার দিওয়ানগঞ্জ গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় র‌্যালিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। র‌্যালিতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টানানো নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রথমে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফল জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালালে ওম প্রকাশ মেহতা ও জয় প্রকাশ মেহতা নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনার জেরে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সুনসারি, সিরাহা, সারলাহি, পারসা ও জনকপুর জেলায় কঠোর কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার সিরাহা জেলায় কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভ করার সময় গণেশ যাদব নামে আরেক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সবাইকে ধৈর্য ধারণ এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে অশান্তির মেঘ দূর করি। সরকার এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনবে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সুনসারিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ নেপালি রুপি আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

২০২১ সালের সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী, নেপালের মোট জনসংখ্যার ৮১ দশমিক ১৯ শতাংশ হিন্দু এবং ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মুসলিম। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় তেরাই অঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস তুলনামূলকভাবে বেশি।

এর আগে চলতি বছরের শুরুতে ভারত সীমান্তবর্তী পারসা জেলার বীরগঞ্জ এলাকায় একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সে সময় কয়েকটি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

সূত্র: রয়টার্স ও আল-জাজিরা