ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বারুইপুরে কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম প্রভাস মণ্ডলের কথিত এনকাউন্টারের তদন্ত করবে সিআইডি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন পুলিশের কর্মকর্তারা; সেই সময়ে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস মণ্ডল। অভিযুক্ত ব্যক্তি গুলিও চালান বলে দাবি পুলিশের।
দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যপুরে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ওই স্কুলশিক্ষার্থীর লাশ রোববার উদ্ধার করা হয় এলাকারই এক পুকুর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায়। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরই একজন পুলিশের গুলিতে নিহত প্রভাস মণ্ডল।
আগেই খুন ও ধর্ষণের সাথে জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয়।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। একইসাথে চলবে সিআইডি তদন্তও।
পুলিশি ‘এনকাউন্টারকে’ ঘিরে সমালোচনা করছেন মানবাধিকারকর্মীরা, রাজনৈতিক বিকর্তও চলছে। মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, নিহত প্রভাস মন্ডল মামলাটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন, তিনিই দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে কোথায় ওই কিশোরীর বস্তাবন্দী লাশ ফেলে রাখা হয়েছে এবং অন্য কারা যুক্ত ছিল ঘটনায়।
আবার পানি-কাদা ভরা যে এলাকায় কথিত এনকাউন্টার হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করছে, সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ওই ‘এনকাউন্টারের’ রাতে তারা কোনো গুলির শব্দই শুনতে পাননি। আবার তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে যে পুলিশ বাহিনী যাতায়াত করেছে সেই রাতে, সেটাও টের পাননি তারা।
ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর বিক্ষোভ হয় সূর্যপুর এলাকায়। সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হয়, রেললাইন উপড়ে ফেলা হয়। এর পাশাপাশি পুলিশের উপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশি গাফিলতিরও অভিযোগ করেন স্থানীয়দের একাংশ।
খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলা এবং সড়ক ও রেল অবরোধ করে যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন, তাদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে শুরু করেছে পুলিশ।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন যে, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যায় অভিযুক্তদের যেমন ছাড় দেয়া হবে না, তেমনই স্থানীয় যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনারও তদন্ত হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভের সময় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনার সাথে যুক্ত ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্র : বিবিসি



