ভারতের গুজরাটের ভদোদরা জেলার উপকণ্ঠে মাহী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে পড়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার সকালে আনন্দ ও পাদ্রার মধ্যে সংযোগকারী ওই সেতুর একাংশ হঠাৎই ভেঙে পড়ে। ওই সময় সেতুতে থাকা একাধিক যানবাহন নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, চার দশকের পুরনো ওই সেতু থেকে একটি গাড়ি পড়ে গিয়ে তিনজন নিহত হয়েছে। পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গুজরাট সরকারের মুখপাত্র ঋষিকেশ প্যাটেল বলেন, ‘আনন্দ ও পাদ্রার মধ্যে সংযোগকারী সেতুর মাঝের অংশ ধসে পড়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাঁচ-ছয়জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে সেতু বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেতুটি মেরামত করা হয়েছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও এই দুর্ভাগ্যজনক এবং মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ২১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।’
আনন্দের কালেক্টর প্রবীণ চৌধুরী বলেন, ‘ভদোদরার দিক থেকে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে, আমরা কেবল যান চলাচল বন্ধ করেছি। এই সেতুটিও ভদোদরা জেলার অন্তর্গত। আনন্দ ও সৌরাষ্ট্র থেকে ভদোদরাগামী যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেতুটি ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল।’
এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধী দলগুলো।
কংগ্রেস নেতা অমিত চাভদা বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে প্রচুর যানবাহন যাতায়াত করে। কেন এত ঘন ঘন এমন ঘটনা ঘটছে? সেতু বিপজ্জনক হলে তা বন্ধ বা মেরামত করতে হবে। সরকারের চরম অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।’
আম আদমি পার্টির নেতা ইসুদান গাধভি বলেন, ‘সেতু থেকে একটি ট্রাক ও একটি পিকআপ গাড়িসহ চারটি ট্রাক নদীতে পড়ে গেছে। আজ ব্রিজ পার হওয়ার সময় বা তার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় লাগে। ব্রিজ যদি বেহাল থাকে, তাহলে যান চলাচল বন্ধ করা হয়নি কেন?’
সূত্র : বিবিসি



