পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে সপ্তাহব্যাপী চলতে থাকা জেন-জির আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মন্ত্রী সরে দাঁড়ানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলা হলে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
আল জাজিরা শনিবার (২৫ জুলাই) জানিয়েছে, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্র নেতাদের সাথে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ পদত্যাগের কথা জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তরুণদের পরিচালিত ব্যাঙ্গাত্মক আন্দোলন গোষ্ঠী ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি।
নিজের পদত্যাগপত্রে ৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, দেশবিরোধী কোনো শক্তি যাতে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে এবং দেশের তরুণদের দাবি ও চাওয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়েই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
কাকরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সরকারের সাথে বৈঠকের পর জানান, তাদের সব দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। সিজেপির মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি (প্রায় এক লাখ তিন হাজার মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফের প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়া।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যন্তর মন্তরে জমা হওয়া আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, 'আমরা করে দেখিয়েছি'। ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বাজিয়ে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উদযাপন করে তরুণরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও এমন উদযাপনের খবর মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিজেপি লিখেছে, 'ককরোচ জিতেছে... গণতন্ত্র জিতেছে!'।
২৬ দিন ধরে অনশন করা সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক এই ঘটনাকে শান্তিপূর্ণ ও ধৈর্যশীল আন্দোলনের বড় জয় হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
এর আগে গত সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং রাবার বুলেট ছুঁড়লে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোদি সরকার একটি বিশেষ আইন ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ঘোষণা দিলেও মন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলনকারীরা বাড়ি ফিরতে রাজি হয়নি।
অবশেষে মন্ত্রীর পদত্যাগের মাধ্যমে মোদি সরকারের ওপর জনঅসন্তোষের একটি বড় ধরনের প্রতিবাদী অধ্যায়ের আপাত সমাপ্তি ঘটল।



