বর-কনে থেকে পুরোহিত : সবাই যমজ!

বিয়ের এই অভিজ্ঞতাকে এক জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হিসেবে দেখছেন যমজ পুরোহিতরা। তারা জানান, একসঙ্গে জন্ম নেওয়া দুটি জোড়া একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করছে, আবার তাদের নিজেদেরও একসঙ্গে ফাদার হওয়া—সব মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা চিরদিন মনে রাখার মতো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যমজ বর যমজ করে এবং যমজ পুরোহিত
যমজ বর যমজ করে এবং যমজ পুরোহিত |সংগৃহীত

একই চালচলন, একই চেহারা—এমনকি বিয়ের মণ্ডপেও একেবারে হুবহু মিল! ভারতের কেরালায় এমন এক অদ্ভুত আর বিরল বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল, যেখানে বর, কনে থেকে শুরু করে মূল সব চরিত্রেই ছিলেন যমজ ভাই-বোনেরা। বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া ১ আগস্ট এই ঘটনার কথা জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার চঙ্গনাচেরি মেট্রোপলিটন চার্চে এই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। পেশায় মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত যমজ দুই ভাই অখিল কে থমাস ও নিখিল কে থমাস বিয়ে করেছেন আইটি খাতে কর্মরত দুই যমজ বোন ম্যাগি মেরী থমাস ও মারিয়া মেরী থমাসকে। বর অখিল ও নিখিল চঙ্গনাচেরির বাসিন্দা কুঞ্জুমন থমাস ও জোমোলের ছেলে। অন্যদিকে কনে ম্যাগি ও মারিয়া পাঠানামথিত্তা জেলার বাসিন্দা টমিচান ও মেরিকুট্টির মেয়ে।

তবে ঘটনা কেবল বর-কনের চেহারার মিলে থেমে থাকেনি। বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা যিনি পরিচালনা করেন, সেই পুরোহিতও ছিলেন যমজ! কাঞ্জিরাপল্লি ডায়োসিসের দুই যমজ ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল এবং ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল পুরো বিয়ে সম্পন্ন করেন। এমনকি অলটারে (গির্জার মূল বেদিতে) পুরোহিতদের সাহায্য করার জন্য থাকা দুই সহকারী জেরন জেমস এবং জোহন জেমসও ছিল যমজ ভাই।

এমন এক বিরল বিয়ের আয়োজন কিন্তু হুট করে হয়নি। দুই কনে জানান, ছোটবেলা থেকেই তাদের স্বপ্ন ছিল এমন এক পরিবেশের, যেখানে বিয়ের চারপাশের সব মুখ হবে যমজদের। এই স্বপ্ন পূরণে কনেরা নিজেরাই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথানাল্লুরের এক চার্চ থেকে সন্ধান পান এই যমজ পুরোহিতদের। আমন্ত্রণ জানানো মাত্রই পুরোহিতেরা সানন্দে রাজি হন।

বিয়ের এই অভিজ্ঞতাকে এক জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হিসেবে দেখছেন যমজ পুরোহিতরা। তারা জানান, একসঙ্গে জন্ম নেওয়া দুটি জোড়া একসঙ্গে নতুন জীবন শুরু করছে, আবার তাদের নিজেদেরও একসঙ্গে ফাদার হওয়া—সব মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা চিরদিন মনে রাখার মতো।

আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য এ যেন ছিল এক অনবদ্য দৃশ্য, আর দুটি পরিবারের জন্য এক শৈশবের স্বপ্নের রঙিন বাস্তবায়ন।