তামিল নাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও সরকার গঠন করতে পারছে না থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে)। কারণ, তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার সন্তুষ্ট নন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের পর এরই মধ্যে অন্তত দুইবার থালাপতি বিজয় রাজ্যপালের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, কিন্তু দুইবারই তাকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে। মানে- তার দলকে সরকার গঠনের অনুমতি দেননি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ।
এমন পরিস্থিতিতে টিভিকে অভিযোগের তীর নিক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিকে। তামিলনাড়ুর আরেক দল ভিসিকের প্রধান থোল. থ্রিরুমাভালাভান দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তাদের দল বিজেপি তামিলনাড়ুতে হস্তক্ষেপ করছে। আর তাদের হস্তক্ষেপের কারণে রাজ্যপাল থালাপতি বিজয়কে সরকার গঠন করতে দিচ্ছে না।
এমন বিতর্কের মুখে বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তামিলনাড়ুর বিজেপি মুখপাত্র নারায়ণন থিরুপতি। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিন বলেন, ‘এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন। টিভিকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১১৮ আসন) নেই। তাদের অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। যদি তারা তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবে তা মেনে নেবেন। এতে বিভ্রান্তির কিছু নেই। রাজ্যপাল সংবিধান অনুযায়ীই চলবেন। টিভিকে কিংবা বিজয়ের দলকে কোনো চাপ দেয়া হচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন হয়। টিভিকের আসন সংখ্যা বেশি। এখানে কেউ কিভাবে চাপ দিতে পারে! এগুলো সবই ভুল রাজনৈতিক তত্ত্ব। সংবিধান অনুযায়ীই সবকিছু হবে।’
উল্লেখ্য, তামিনাড়ুতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে টিভিকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ‘জাদু সংখ্যা’ এখনো ছুঁতে পারেনি। টিভিকের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ১০৮। কিন্তু ২৩৪ আসন বিশিষ্ট তামিলনাড়ুর বিধানসভায় সরকার গড়তে হলে দরকার ১১৮টি আসন।
তবে টিভিকের জন্য সুখবর হলো- এরই মধ্যে তাদেরকে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস। সবমিলিয়ে বিজয়ের পক্ষে এখন রয়েছে ১১৩টি আসন। যেটিও পর্যাপ্ত নয়। একইসাথে যেহেতু বিজয় দুটি আসনে জয় লাভ করেছেন, তাই তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে। এতে মোট আসনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১২-তে। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাদের আরো ছয়টি আসন প্রয়োজন।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সিপিআই, সিপিএম এবং ভিসিকের মতো দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু করে দিয়েছেন বিজয়। আশা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া থালাপতি বিজয়।



