ভারতের ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী ১০৭ মুসলিম প্রার্থী

অবাককরা ব্যাপার হচ্ছে- আসাম বিধানসভায় কংগ্রেসের মোট ১৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, যার ১৮ জনই মুসলিম।

বেলায়েত হুসাইন
গ্রাফিক্স : নয়া দিগন্ত

ভারতের পাঁচ রাজ্য- পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও পদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল অনেককিছুই ওলটপালট করে দিয়েছে। একদিকে পশ্চিমঙ্গে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), অপরদিকে পর্দার অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে আবির্ভূত হওয়া থালাপতি বিজয়ের তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) তামিলনাড়ুর সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস (আইএনসি) নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) এক দশক পর কেরালার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করছে। তবে সব ছাপিয়ে এবারের আলোচনা ৫ রাজ্যের বিজয়ী মুসলিম প্রার্থীদের নিয়ে। কেননা, কয়েকটি দল এমনও আছে, যাদের মুসলিম প্রার্থীরাই শুধু জয় পেয়েছেন।

এবিপি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৫ রাজ্যের সর্বমোট ৮২৪টি আসনের মধ্যে ১০৭ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে অবাককরা বিষয় হলো- ভারতের কেন্দ্রীয়ভাবে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ৫ রাজ্যের কোথাও কোনো মুসলিমকে প্রার্থী করেনি।

পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। রাজ্যটির ২৯৪টি আসনের ২৯৩টিতে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি আসনে জয়ী হয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। তবে ২০২১ নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ৪৪টি। রাজ্যে বিজয়ী মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার বড় একটি কারণ হলো- সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবারের নির্বাচনে ৩৪ জন মুসলিমকে প্রার্থী করেছে, কিন্তু গত নির্বাচনে এটি ছিল ৪৩ জন।

তবে, তৃণমূল ও বিজেপি বাদে অন্যান্য দলের মুসলিম প্রার্থী সংখ্যা ১ থেকে বেড়ে এই নির্বাচনে ছিল মোট ৬ জন। তার মধ্যে কংগ্রেসের ২ জন, আম জনতা ইউনিয়ন পার্টির (এজেইউপি) ২ জন এবং সিপিআই (এম) ও আইএইচএফের একজন করে- মোট ৬ জন। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নির্বাচনে বিজেপি কোনো মুসলিমকে প্রার্থী করেনি।

কেরালায় ১৪০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার দিক দিয়ে পাঁচ রাজ্যের মধ্যে রাজ্যটির অবস্থান দ্বিতীয়তে। এখানে বিজয়ী মুসলিম প্রার্থীদের আনুমাতিক হার ২৫ শতাংশ। এই ৩৫ জনের মধ্যে ৩০ জনই বিজয়ী জোট ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউডিএফ)। যার মধ্যে প্রধান দল কংগ্রেসের ৮ জন, শরীক দল ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) ২২ জন, বিরোধী দল সিপিআই’র (এম) ৪ জন ও সিপিআই’র ১ জন মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন। এই রাজ্যে গত বছরের তুলনায় মুসলিম প্রার্থী সংখ্যা তিনজন বৃদ্ধি পেয়েছে।

আসামে মোট ১২৬টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে মোট ২২ জন মুসলিম প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩১ জনে; অর্থাৎ গতবারের তুলনায় রাজ্যটিতে বিজয়ী মুসলিম প্রার্থী সংখ্যা এবার ৯ জন কম। অবাককরা ব্যাপার হচ্ছে- আসাম বিধানসভায় কংগ্রেসের মোট ১৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, যার ১৮ জনই মুসলিম। এ ছাড়া অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) ২ জন এবং তৃণমূল কংগ্রেস ও রাইজর দলের একজন করে; মোট ২২ জন।

তামিল নাড়ুতে ভোট হওয়া ১৩৪টি আসনের মধ্যে ৯ আসনে মুসলিম প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে তামিলনাড়ু মুসলিম মুন্নেত্র কাজাগমের (টিএমকে) ৩, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের ২, কংগ্রেসের ১ এবং বিজয় থালাপতির দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগমের (টিভিকে) ৩ জন। রাজ্যটির মুসলিম জনসংখ্যা ৫.৮৬ শতাংশ, যার তুলনায় বিধানসভায় মুসলিমদের অংশ মাত্র (প্রায়) ৩ শংতাশ, যা অত্যন্ত কম।

আর কেন্দ্রশাসিত পদুচেরিতে ৩০ জন সদস্যের বিধানসভায় মাত্র একজন মুসলিম প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। রাজ্যের একমাত্র মুসলিম বিধায়ক হলেন ডিএমকে প্রার্থী এএমএইচ নাজিম। তিনি পদুচেরির কারাইকাল দক্ষিণ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। ৬.০৫ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই রাজ্যের এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক দলগুলোর মুসলিম প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ না দেয়ার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, উল্লেখিত ৫ রাজ্যের মধ্যে- কেরালা ও আসামে মুসলিম প্রার্থীদের জয়ের হার ৮০ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব হতাশ হওয়ার মতো।