শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল ৬ শতাংশ

পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪১০ রুপি থেকে বেড়ে ৪৩৪ রুপি হয়েছে। ডিজেলের দাম ৩৯২ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৪০৭ রুপি করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কলম্বোতে তেলের পাম্পে লম্বা লাইন
কলম্বোতে তেলের পাম্পে লম্বা লাইন |ইন্টারনেট

শ্রীলঙ্কা রোববার জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ ছয় শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির প্রকৃত ব্যয় আদায় এবং ভর্তুকি ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানিয়েছে।

সরকারি মালিকানাধীন সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ৪১০ রুপি থেকে বেড়ে ৪৩৪ রুপি (প্রায় ১.৩৩ মার্কিন ডলার) হয়েছে। ডিজেলের দাম ৩৯২ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৪০৭ রুপি করা হয়েছে।

আইএমএফ সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার জন্য অনুমোদিত ২.৯ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট প্যাকেজের আওতায় ৬৯৫ মিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি ছাড়ের অনুমোদন দেয়। ২০২৩ সালের শুরুতে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। ঋণের কিস্তি অনুমোদনের কয়েক দিনের মধ্যেই জ্বালানির এ মূল্যবৃদ্ধি করা হলো।

আইএমএফ শ্রীলঙ্কাকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি প্রত্যাহার করে প্রকৃত ব্যয় আদায় নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সরকার এসব খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে আসছিল।

প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে আইএমএফকে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে জ্বালানি ভর্তুকি ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে শ্রীলঙ্কায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিদ্যুতের দামও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে চাপ বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

শ্রীলঙ্কা তাদের প্রয়োজনীয় সব তেল আমদানি করে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লাও বিদেশ থেকে কিনে থাকে।

কলম্বো সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২২ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে দেশটির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

২০২২ সালে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণে খেলাপি হওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কা আইএমএফের সহায়তায় অর্থনীতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।