ভারতে আন্দোলন : ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেন ওয়াংচুক

১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি লাদাখে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সোনম ওয়াংচুক
সোনম ওয়াংচুক |সংগৃহীত

দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ভারতের শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক।

সোমবার হরিয়ানার গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এক ভিডিও বার্তা দেন তিনি। এতে তিনি জানান, দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি লাদাখে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।

ওয়াংচুক নিজের শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বলেন, ‘অবশেষে আজ হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাচ্ছি। এখন অনেকটা ভালো আছি। অল্প অল্প করে খাওয়ার পরিমাণ বাড়াচ্ছি। শরীরে বলও ফিরে পাচ্ছি।’

শিক্ষায় দুর্নীতি, ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। গত ১৮ জুলাই তাকে জোর করে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তারপরেও অবশ্য অনশন চালিয়ে যান ওয়াংচুক।

পরে আদালতের অনুমতিতে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল ওয়াংচুককে। কিন্তু তারপরেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের সাথে ওই হাসপাতালেই দীর্ঘ বৈঠকের পরে অনশন প্রত্যাহার করেন সোনম।

শুক্রবার সকালে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওয়াংচুক জানান, কেন্দ্রের তরফে মূলত তিনটি আশ্বাস পাওয়ার পরেই ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতিগুলো হলো- ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে শামিল হওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে না সরকার। দেশে পরীক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করবে সরকার ও বিরোধী দলগুলো। এর পাশাপাশি নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারকে ‘পর্যাপ্ত’ ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে বিবেচনা’ করে দেখবে কেন্দ্র।

এই তিনটি বিষয়ে সরকারের লিখিত প্রতিশ্রুতি পেয়ে ওয়াংচুক অনশনভঙ্গ করলেও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র ইস্তফা দেয়ার পর আন্দোলন তুলে নেয় তারা।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা