পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েই ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে’ সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফের পরিকাঠামো গড়ার উদ্দেশ্যে দ্রুত জমি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) গুজরাটের গান্ধীনগরে এক সভায় অমিত শাহ বলেন, ‘মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকার সময় প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। আমাদের সরকার আসার পরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। বিএসএফকে জমি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।’
নিজের সংসদীয় কেন্দ্রে জনসভা থেকে অমিত শাহ জানিয়েছেন, যেসব ‘বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী’ স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে না।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও আগে এমন ঘোষণা দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, যারা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত নন, তাদের গ্রেফতার করে ফেরত পাঠানোর জন্য সরাসরি তুলে দেয়া হবে বিএসএফের হাতে।
এখন পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএফকে মোট ১৪২ দশমিক ৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সামাজিকমাধ্যমে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, ওই জমিতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বিএসএফের নতুন আউটপোস্ট (সীমান্ত চৌকি) তৈরি করা হবে।
কোন জেলায় ঠিক কত পরিমাণ জমি দেয়া হয়েছে, বুধবার রাতে তাও নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সবচেয়ে বেশি জমি দেয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদেই।
অন্যদিকে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জনবিন্যাসের চরিত্রের বদল খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছেন অমিত শাহ। আগামী দিনে সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে (বিএসএফের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা) জনবিন্যাসের চরিত্র বদল হচ্ছে কি না, তা নজর রাখার জন্য বিএসএফকে বুধবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্পষ্ট ভাষায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেন।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা



