উত্তপ্ত মণিপুর : ১০ দিনের বনধের ডাক, নতুন সরকার গঠনের আল্টিমেটাম

এসিবি মেইতেই গ্রুপ আরামবাই টেংগোলের সদস্য আসেম কাননকে গ্রেফতার করেছে। তারপরই মণিপুরের উপত্যকার জেলাগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মণিপুরে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে
মণিপুরে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে |সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত ভারতের মণিপুর রাজ্যে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ডাক দেয়া হয়েছে ১০ দিনের বনধের। সেইসাথে ১০ জুনের মধ্যে নতুন একটি ‘জনপ্রিয়’ সরকার গঠনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে।

রোববার (৮ জুন) এ খবর দিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

খবরে বলা হয়েছে, রোববার গুয়াহাটির সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) মেইতেই গ্রুপ আরামবাই টেংগোলের সদস্য আসেম কাননকে গ্রেফতার করেছে। তারপরই মণিপুরের উপত্যকার জেলাগুলোতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সিবিআই জানিয়েছে, ‘২০২৩ সালের মণিপুর সহিংসতার সাথে যুক্ত বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য রোববার ইম্ফল বিমানবন্দরে কাননকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরিবারকে গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সিবিআই মণিপুর সহিংসতা সংক্রান্ত মামলার তদন্ত করছে। বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে এই মামলাগুলোর বিচার মণিপুর থেকে গুয়াহাটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

সিবিআই আরো নিশ্চিত করেছে যে কাননকে গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পুলিশ রিমান্ডের জন্য উপযুক্ত আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাজ্যের রাজধানী ইম্ফল থেকে আরামবাই টেংগোলের আরো চার সদস্যের সাথে গ্রেফতার করা হয় কাননকে। যদিও সিবিআইয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে শুধু কাননকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে, ইম্ফল শহরে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। শত শত বিক্ষোভকারী জ্বলন্ত টায়ার, কাঠের তক্তা এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ব্যবহার করে প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল, মক বোমা ও তাজা রাউন্ড নিক্ষেপ করে। কাঁদানে গ্যাসের শেল বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, সন্ধ্যায় পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। ইম্ফল ইস্টের প্যালেস কম্পাউন্ড এবং পশ্চিম ইম্ফলের ইম্ফল বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত কেইশামপাত ব্রিজ, মইরাংখোম এবং তিদ্দিম রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার আরামবাই টেংগোল গ্রেফতার হওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজ্যব্যাপী ১০ দিনের বনধ ঘোষণা করেছে।

পাশাপাশি, পূর্ব ইম্ফলের খুরাই থেকে একটি নারী সংগঠন কড়া হুঁশিয়ারি জারি করে দাবি করেছে, ‘বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকা সমস্ত বিধায়কদের ইম্ফলে ফিরে আসতে হবে এবং ১০ জুন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে একটি নতুন জনপ্রিয় সরকার গঠন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে ফিরতে না পারলে কোনো বিধায়ককে রাজ্যে ঢুকতে দেয়া হবে না।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উপত্যকার জেলাগুলোতে পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল না।