ভারতের উত্তরপ্রদেশে মহররম উপলক্ষে অনুষ্ঠিত শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তা নিয়ে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। ভিডিওতে মিছিলে অংশ নেয়া এক ১২ বছরের বালককে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিতে শোনা যায়। তবে পুলিশের তদন্তে সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। বরং পরিকল্পিতভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ভিডিওটি তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বরেলি জেলার হাফিজগঞ্জ থানা এলাকার খাইখেড়ায়। এ ঘটনায় পুলিশ যোগেন্দ্র পাল ও ভুবনেশ কুমার নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে।
এর আগে, রোববার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিতর্কিত স্লোগান দিচ্ছে ১২ বছর বয়সী এক বালক। ভিডিও প্রকাশের পর দ্রুত তা বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মহররমের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এমনকি মিছিলে উপস্থিত প্রায় ৩০ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ভিডিওর ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য নেয়া হয় এবং ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই।
পুলিশের দাবি, এলাকারই কয়েকজন ব্যক্তি ওই নাবালককে দিয়ে বিতর্কিত স্লোগান বলিয়ে ভিডিও তৈরি করে এবং পরে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা। পরে এই ঘটনায় অভিযুক্ত যোগেন্দ্র পাল ও ভুবনেশ কুমার নামে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
দুজনেরই বয়স ত্রিশের কোঠায় বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তারাই বালকটিকে ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন এবং পরে তা ছড়িয়ে দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি প্রথম কারা প্রচার করেছিল এবং এই ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনো চলছে।
পুলিশ সুপার (উত্তর) মুকেশ চন্দ্র মিশ্র জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী ১২ বছর বয়সী ওই বালকের জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে। একইসাথে ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।



