গত বছরের জুনে ভারতের আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান মেডিক্যাল কলেজের ওপর আছড়ে পড়ে। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় লন্ডনগামী সেই ফ্লাইটে থাকা ২৪১ জন যাত্রীর সবাই নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয় এবং ৫২ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।
এছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে ও তার আশপাশে থাকা আরো ১৯ জন প্রাণ হারান। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আরো ৬৭ জন গুরুতর আহত হন।
লন্ডনগামী সেই অভিশপ্ত ফ্লাইটের একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাস কুমার রমেশ। দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে সত্য, স্বচ্ছতা আর জবাবের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পরপরই বিমানের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনো মেলেনি।
এদিকে গত মাসে ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে এবং ১২ জুনের মধ্যেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।
এই এক বছরে বিশ্বাসের ক্ষত একটুও শুকায়নি, বরং বেড়েছে তীব্র মানসিক ট্রমা আর আর্থিক কষ্ট। ওই দুর্ঘটনায় তিনি নিজের ভাইকেও হারিয়েছেন।
ব্রিটিশ এই নাগরিক গণমাধ্যমকে জানান, কেবল তিনি নন, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারই এখন স্বচ্ছতা আর স্পষ্ট জবাবের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
বিশ্বাসের প্রতিনিধি সঞ্জীব প্যাটেল জানান, এয়ার ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া ২১ হাজার ৫০০ পাউন্ড দিয়ে স্ত্রী ও পাঁচ বছরের সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে টিকে আছেন বিশ্বাস। দুর্ঘটনার ধাক্কায় তিনি কাজেও ফিরতে পারেননি। বর্তমানে মাসে এক হাজার পাউন্ডেরও কম টাকায় চলছে তাদের সংসার। টাটা গ্রুপের প্রতিনিধিদের সাথে কিছু ইতিবাচক আলোচনা হলেও বিমান সংস্থার প্রধান নির্বাহীর সাথে এখনো দেখা করা সম্ভব হয়নি।
সঞ্জীব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের নিয়ে ঘটা এত বড় বিমান দুর্ঘটনার পরও যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে কোনো সরাসরি সহায়তা বা যোগাযোগ করা হয়নি।
তবে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিশ্বাসের পাশে আছেন।
অন্যদিকে আইন সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হাডগেল সলিসিটরসের পল ম্যাকক্লোরি জানান, এই ভয়াবহ বিপর্যয় কিভাবে এড়ানো যেত, তা জানতে তারা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন এবং আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



