হাসপাতালে এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতের শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুক। আর যন্তর মন্তর ছাড়বে না বলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তাদের দাবি এখন একটাই- কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
শুধু ভারতে নয়, নিউইয়র্ক ও লন্ডনেও এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে এই দুই শহরেও। অন্যদিকে, বিজেপি বিরোধী জোটও পথে নেমেছে।
দিল্লিতে ছাত্র-যুবকদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আটক থাকা অবস্থায় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবিও জানান তিনি।
এদিকে, এই বিক্ষোভ সরকারের কাছে ‘আউট অফ সিলেবাস’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
নিট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন অন্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের বাইরেও আন্দোলন ছড়াতে শুরু করেছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, অনশনরত ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমেরিকার একটি ‘অ্যাডভোকেসি গ্রুপের’ সদস্যরা নিউইয়র্ক এবং সান হোসে শহরে বিক্ষোভ করেছেন। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামে ওই গ্রুপের সদস্যরা নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গান্ধী মূর্তির সামনে জড়ো হন এবং ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবি জানান। শুধু নিউইয়র্ক বা সান হোসেতে নয়, লন্ডন এবং ডাবলিনেও একইভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন ওই গ্রুপের সদস্যরা।
নিটে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সোমবার সিজেপির সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দেশটির রাজধানী। পুলিশের লাঠি-কাঁদানে গ্যাসের বাধা কাটিয়ে সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তবে শেষপর্যন্ত সংসদে পৌঁছাতে পারেননি তারা।
সিজেপি ও বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। সেই আচরণের প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরেরা।
মঙ্গলবার মোদির বাসভবনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ, পরে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া, রাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে যন্তর মন্তরে ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
এর মধ্যেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল কেন্দ্রের কাছে পাঁচ দফা দাবিও জানিয়েছেন। আটক থাকাকালীনই একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। শুধু ধর্মেন্দ্র নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও পদত্যাগের দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেতা। এছাড়াও তার দাবি, সোমবার বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘হামলাকারী’ পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
পাশাপাশি পুলিশি হামলার দায় স্বীকার করে মোদি সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানান এই কংগ্রেস নেতা।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ‘আরশোলাদের’ পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরের দিনই ছাত্র-যুবকদের মিছিলে ‘পুলিশি হামলা’ নিয়ে আলোচনা চেয়ে নোটিশ দিলেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমূল হক।
প্রথম থেকেই সিজেপির আন্দোলনের পাশে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। যন্তর মন্তরে গিয়ে ওয়াংচুকের সাথে দেখাও করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লির রাস্তায় প্রতিবাদে যোগ দিতেও দেখা গেছে তাকে। বুধবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন মহুয়া।
কৃষ্ণনগরের সাংসদের মতে, সরকার যতই চেষ্টা করুক, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়ছেন না। এই বিক্ষোভ সরকারের কাছে ‘আউট অফ সিলেবাস’ বলেও কটাক্ষ করেন মহুয়া।
তার দাবি, ‘মোদি ও শাহেরা জানেন না কিভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয়। তারা শুধু জানেন যারা ভয় পান, তাদের সামলাতে।’
অন্যদিকে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস দাবি করেছেন, তার হোয়াট্সঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক’ করা হয়েছে। তার প্রশ্ন, ‘মেটা কি পারবে সিজেপির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে?’
সূত্র: আনন্দবাজার



