আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, বাংলাদেশীসহ ২৫০ যাত্রী নিখোঁজ

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আন্দামান সাগরে একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশী নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

জানা গেছে, ট্রলারটি বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। পথে আন্দামান সাগরে প্রবল বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে এটি ডুবে যায়। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করায় ট্রলারটি ভারসাম্য হারায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের ভয়াবহ পরিণতি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা তাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলেছে।

একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা হ্রাস পাওয়ায় শরণার্থী শিবিরে জীবনযাপন আরো কঠিন হয়ে উঠেছে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিতে বাধ্য করছে।

Untitled design (6)

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিদেশে উন্নত জীবনের আশায় এবং পাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রভাবে অনেকেই জীবনবাজি রেখে এমন যাত্রায় পা বাড়াচ্ছেন। এতে মানবপাচারকারীরা অসহায় মানুষকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আন্দামান সাগর ইতোমধ্যেই বহুবার এমন বিপজ্জনক যাত্রায় প্রাণহানির সাক্ষী হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাগুলো বলেছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং জোরদার করা জরুরি। এতে বাংলাদেশে আশ্রিত শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।

তারা আরো উল্লেখ করেন, নতুন বছর উদযাপনের প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। একই সাথে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সাথে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।

সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছে সংস্থাগুলো।