ভারতের উত্তর প্রদেশের রামপুরে অবস্থিত মোহাম্মদ আলি জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান ও হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি এ উদ্যোগকে মুসলিম শিক্ষার ওপর ‘সরাসরি আক্রমণ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে সম্প্রতি সাহারানপুর সফরে এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ওয়াইসি বলেন, তার দল বিশ্ববিদ্যালয়টির পাশে রয়েছে। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের সাথে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
মুসলিমদের শিক্ষার চিত্র তুলে ধরে ওয়াইসি বলেন, উত্তর প্রদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৯ থেকে ২০ শতাংশ মুসলিম হলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ স্নাতক। এ ছাড়া রাজ্যের মুসলিমদের সাক্ষরতার হার প্রায় ৫৩ থেকে ৫৪ শতাংশ এবং মুসলিম নারীদের মধ্যে এ হার আরো কম।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির ভবন ভেঙে দেয়া হলে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। কোনো আইনি বা কারিগরি জটিলতা থাকলে তা ভাঙচুরের পরিবর্তে নিয়মিতকরণের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
ওয়াইসি বলেন, ‘আপনারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়টি ভেঙে দিতে চান, তাহলে তার অর্থ হলো আপনারা চান না মুসলমানরা শিক্ষিত হোক। এটি শিক্ষার ওপর সরাসরি আক্রমণ।’
আগামী বছর অনুষ্ঠেয় উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন এআইএমআইএম প্রধান। তিনি বলেন, তার দলের লক্ষ্য মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর গড়ে তোলা এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আরো শক্তিশালী করা।



