বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে, যেখানে স্মার্টফোনের এক স্পর্শেই পবিত্র কোরআন শরীফ পড়া ও তেলাওয়াত করা যায়, সেখানে নিজের হাতে সম্পূর্ণ কোরআন লিখে অনন্য কীর্তি গড়লেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার মালতীপুরের হাফেজা আলেমা আমামা সুলতানা।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মাত্র পাঁচ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং আল্লাহর কালামের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি এটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
আমামা সুলতানা মালতীপুর মাদরাসা মাহাদ-ই-সাফিয়্যাহ লিল বানাত-এর সাবেক ছাত্রী। বর্তমানে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। ছোটবেলা থেকেই নিজের হাতে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ লেখার স্বপ্ন ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে কোরআনের প্রতিটি সূরা, প্রতিটি আয়াত এবং প্রতিটি হরফ লিখেছেন। একটি অক্ষরও যাতে ভুল না হয়, তার জন্য প্রতিটি পৃষ্ঠা বারবার মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তাজবীদের নিয়ম, শুদ্ধতা এবং লেখার সৌন্দর্যের প্রতি সমান গুরুত্ব দিয়েই সম্পন্ন হয়েছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
তার এই সাধনার সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায় হলো, নিজের হাতে লেখা পবিত্র কোরআন শরীফ তিনি উপহার দিয়েছেন সদ্য হিফজ সম্পন্ন করা খুদে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ বিন মুনিরের হাতে। এক হাফেজার হাতে লেখা কোরআন আরেক খুদে হাফেজের হাতে তুলে দেয়ার এই মুহূর্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট আলেম-উলামা, ইসলামিক চিন্তাবিদ, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী এবং বহু শুভানুধ্যায়ী। সকলেই আমামা সুলতানার এই কৃতিত্বের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে নিজের হাতে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ লেখা শুধু একটি সৃজনশীল কাজ নয়, বরং ধৈর্য, একাগ্রতা ও ঈমানি চেতনার এক অনন্য প্রকাশ।
মাদরাসার সম্পাদক ক্বারী মাহমুদ বলেন, ‘আমামা সুলতানা আমাদের প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত মেধাবি ছাত্রী। বর্তমানে তিনি এখানেই শিক্ষকতা করছেন। নিজের হাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন লিপিবদ্ধ করে শুধু আমাদের মাদরাসার নয়, সমগ্র বসিরহাটের গর্ব হয়ে উঠেছেন।’
নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে কৃতী আমামা সুলতানা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল নিজের হাতে সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ লিখব। আল্লাহর অশেষ রহমত, উস্তাদদের দোয়া এবং পরিবারের অনুপ্রেরণায় সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমার কাছে এই কাজটি শুধু লেখালেখি নয়, একটি ইবাদত। আমি চাই নতুন প্রজন্ম কোরআনের সাথে আরো বেশি সম্পৃক্ত হোক, কোরআন পড়ুক, বুঝুক এবং সেই অনুযায়ী জীবন গড়ে তুলুক।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বসিরহাটে এমন ঘটনা বিরল। আমামা সুলতানার এই কৃতিত্ব কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা, অধ্যবসায় ও আত্মনিবেদনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার হাতে লেখা পবিত্র কোরআন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার মূল্যবান নিদর্শন হয়ে রইবে।


