এপস্টেইন ফাইলে মোদির নাম, ভিত্তিহীন দাবি ভারতের

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন এপস্টেইন ফাইলে মোদির নাম জড়ানোর দাবি উঠলেও ভারত সরকার একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে। ২০১৭ সালের ইসরাইল সফরের সঙ্গে এপস্টেইনের কোনো যোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি |সংগৃহীত

যৌন অপরাধী এপস্টেইনের সাথে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এর মাধ্যমে সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় সংখ্যায় নথি প্রকাশ করা হলো। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ নথিপত্রগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে শত শত বার। মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের নামও উঠে এসেছে।

ট্রাম্প, বিল গেটসের সাথেই এবার এপস্টেইন ফাইলে নাম জড়াল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মার্কিন বিচারবিভাগের তরফে সদ্য প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে। যদিও এই প্রতিবেদনকে পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়ছে, প্রতিবেদনে মোদি-সংক্রান্ত যে তথ্য রয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সদ্য প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের এক ইমেল সামনে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, এখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইসরাইল সফরের কথা বলা হয়েছে। ইমেলে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এপস্টেইনের পরামর্শ নেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বার্থে ইসরাইল সফর করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০১৭ সালে সত্যিই ইসরাইল সফরে গিয়েছিলেন মোদি। এই তথ্য সামনে আসতেই নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কোন বিষয়ে এপস্টেইনের মতো একজন যৌন অপরাধীর সাথে পরামর্শ করছিলেন মোদি?

তবে এপস্টেইন ফাইলের এই তথ্য পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি এই তথ্যকে পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে জানান, ‘২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরাইল সফর করেছিলেন একথা সত্য। কিন্তু সেই সরকারি সফরের সাথে এপস্টাইনের কোনো যোগ নেই। ইমেলে যা কিছু রয়েছে তা মিথ্যা ও অর্থহীন।’

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তরফে এপস্টেইন-সংক্রান্ত ৩৫ লাখ পাতার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকাশ করা হয়েছে অন্তত দুই হাজারটি ভিডিও এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি।

প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে আছে জেফরি এপস্টেইনের কারাগারের থাকার সময়ের বিস্তারিত তথ্য, যার মধ্যে তার মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক রিপোর্ট ও জেলে থাকার সময়ে মৃত্যুর তথ্য আছে। এছাড়া এপস্টেইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের নথিও আছে এর মধ্যে। ম্যাক্সওয়েলকে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারে এপস্টেইনকে সাহায্য করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। প্রকাশিত নথিপত্রের মধ্যে এপস্টেইন ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে আদান-প্রদান করা ই-মেইলও রয়েছে।

সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন