ফের ছত্তিসগড়ে খতম করা হলো মাওবাদীদের। নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলির লড়াইয়ে দুই নারীসহ কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। রোববার রায়পুর থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে সুকমা জেলার তুমালপাড়ের পাহাড়ি জঙ্গলে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রের খবর, নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে গুলির বিনিময়ে দুই নারীসহ সিপিআইয়ের তিনজন মাওবাদী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন মাদবী দেব (জন-মিলিশিয়া কমান্ডার এবং কোন্টা এরিয়া কমিটির সদস্য), পোডিয়াম গাঙ্গি (কোন্টা এরিয়া কমিটির সিএনএম কমান্ডার) এবং সোদি গাঙ্গি (কিস্তরামের এরিয়া কমিটির সদস্য)। মাও নেতা প্রত্যেকের মাথায় দাম ছিল ৫ লাখ টাকা। এদিন অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল থেকে একটি এ৩০৩ রাইফেল, ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার (বিজিএল) লঞ্চার, অন্যান্য অস্ত্র এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
সুকমার জেলা পুলিশ প্রধান কিরণ চৌহান জানিয়েছেন, ‘তুমালপাড় জঙ্গলে মাওবাদীদের উপস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এর একটি দল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। ওই অঞ্চলে মাওবাদীদের সাথে গুলির লড়াই হয়েছে। এনকাউন্টারে ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বস্তার রেঞ্জে ২৩৩ জন মাওবাদী নিহত হয়েছেন। বস্তার জোনের সাতটি মাওবাদী অধ্যুষিত জেলার মধ্যে সুকমাকে দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসাবে পরিচিত।
এদিকে বস্তার রেঞ্জের আইজিপি সুন্দররাজ পট্টিলিঙ্গম বলেন, ‘মাওবাদী ক্যাডারদের সহিংস পথ পরিত্যাগ করে সরকারের পুনর্বাসন নীতি গ্রহণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তথাকথিত ‘বিপ্লবী আন্দোলন’ এখন একটি ফাঁপা খোলস হিসাবে উন্মোচিত হয়েছে, যা তার নিজস্ব ক্যাডারদের দ্বারা পরিত্যক্ত হয়েছে। হিংসা ও ধ্বংসের মতাদর্শ সমস্ত প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে। বস্তার পুলিশ সিপিআই (মাওবাদী) নেটওয়ার্কের অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সূত্র : পুবের কলম



