পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তার দেশ ভারতের সাথে কাশ্মির সমস্যা ও পানি নিরাপত্তাসহ দুই দেশের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনে আলোচনায় আগ্রহী। গতকাল সোমবার ইরান সফরে এসে এসব কথা বলেছেন তিনি।
শাহবাজ শরিফ বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ চার দেশের সফরে ইরানে আছেন। তিনি ভারতের সাথে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার সময় পাকিস্তানকে সমর্থন করার জন্য ইরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে, সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে রাজধানী তেহরানের সাদাবাদ প্রাসাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়।
পেজেশকিয়ানের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে ‘খুবই ফলপ্রসূ ও কার্যকর বৈঠক হয়েছে, যা আমাদের পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার সব ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।’
তিরি বলেন, ‘আমাদের দুই ভ্রাতৃপ্রতিম ও প্রতিবেশী দেশকে ব্যবসা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ঐক্যমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ভারতের সাথে সামরিক সংঘাতের সময় সমর্থন করার জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, উভয় দেশেরই গভীর সাংস্কৃতিক বন্ধন ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। তারা এ সম্পর্কগুলোকে ‘জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত উৎপাদনশীল সহযোগিতায়’ পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভারতের সাথে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অসাধারণ সশস্ত্র বাহিনীর সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে পাকিস্তান এ সংঘাত থেকে বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তি চেয়েছিলাম, আমরা শান্তি চাই এবং আমরা আলোচনার মাধ্যমে এ অঞ্চলে শান্তির জন্য কাজ করব। কাশ্মির সমস্যাসহ আমাদের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাব। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে, এমনকি ১৯৫৪ সালে ভারতীয় লোকসভার প্রস্তাব অনুসারে।’
শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশীর সাথে শান্তির স্বার্থে পানি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য আলোচনা করতেও প্রস্তুত। কিন্তু যদি তারা আক্রমণাত্মক পথ বেছে নেয় তাহলে আমরা আমাদের ভূখণ্ড রক্ষা করব। যেমনটি আমরা কয়েকদিন আগে করেছি। কিন্তু যদি তারা আমার শান্তির প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে আমরা দেখাবো যে আমরা সত্যিই শান্তি চাই।’
সোমবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাথে দেখা করেন।
রোববার তুরস্কে দুই দিনের সফরে শাহবাজ শরিফ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সাথে একটি প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় তুরস্ককে তাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।
গত মাসে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের পেহেলগামে বন্দুকধারীর হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে সামরিক হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তানও পাল্টা হামলা চালালে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সামরিক সংঘাতে জড়ায় দেশ দু’টি। টানা চারদিনের সংঘর্ষের পর ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ।
সূত্র : বাসস



