যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাবমেরিনের হামলায় একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার পর লাইফ র্যাফট থেকে উদ্ধার হওয়া ২২ ইরানি নাবিককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছে শ্রীলঙ্কা।
রোববার কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী গলের কারাপিটিয়া হাসপাতালে বুধবার থেকে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার আঞ্চলিক পানিসীমার ঠিক বাইরে আইআরআইএস ডেনা টর্পেডো হামলায় ডুবে যাওয়ার পর তাদের সেখানে নেয়া হয়।
হাসপাতালের এক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, ‘আরো ১০ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ভারত মহাসাগর থেকে উদ্ধার করা ৮৪ ইরানির লাশ ওই হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
রাতেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া নাবিকদের একই জেলার একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে নেয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেনা জাহাজের জীবিত নাবিকদের আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় দেখভাল করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সহায়তার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সাথে যোগাযোগ করেছে।
দ্বীপ রাষ্ট্রটি দ্বিতীয় একটি জাহাজ আইআরআইএস বুশেহর-এর আরো ২১৯ ইরানি নাবিককেও নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। ডেনা ডুবে যাওয়ার একদিন পর জাহাজটিকে নোঙর করার অনুমতি দেয়া হয়।
বুশেহর জাহাজের নাবিকদের রাজধানী কলম্বোর ঠিক উত্তরে ওয়েলিসারা এলাকায় শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর একটি শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা জানিয়েছে, বুশেহর জাহাজটিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিনকোমালি বন্দরে নেয়া হচ্ছে। তবে ইঞ্জিন বিকল হওয়া এবং অন্যান্য কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে বলে নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান।
ইরানিদের দেশে ফিরতে না দিতে ওয়াশিংটনের চাপ রয়েছে- এমন দাবি অস্বীকার করেছে শ্রীলঙ্কা। তারা বলেছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কলম্বো আন্তর্জাতিক আইন ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ আইন মেনেই এগোবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র বলেন, বুশেহর জাহাজের নাবিক এবং সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি শ্রীলঙ্কার ওপর নির্ভর করছে।
ওয়াশিংটনে তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কার সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই সম্মান ও স্বীকৃতি দেয়।’
এদিকে ভারত শনিবার জানিয়েছে, মানবিক কারণে তৃতীয় একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস লাভানকে তাদের একটি বন্দরে নোঙর করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। জাহাজটিও ইঞ্জিন সমস্যার কথা জানিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে গত সপ্তাহে ভারতের আয়োজিত একটি বহুজাতিক নৌবহর পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এই তিনটি জাহাজ অংশ নিয়েছিল।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর শনিবার বলেন, ‘আমি মনে করি, এটিই মানবিক কাজ ছিল এবং আমরা সেই নীতিতেই পরিচালিত হয়েছি।’
লাভান জাহাজটি বুধবার ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কোচি বন্দরে নোঙর করে।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘জাহাজে থাকা অনেকেই তরুণ ক্যাডেট ছিলেন। তারা জাহাজ থেকে নেমে কাছাকাছি একটি স্থাপনায় অবস্থান করছেন।’
সূত্র : বাসস


