পাকিস্তানের গুল প্লাজায় আগুন : এক দোকানেই ৩০ লাশ, নিহত বেড়ে ৬১

করাচির গুল প্লাজার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৬১ জন; একটি ক্রোকারিজ দোকান থেকেই ৩০টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বিয়ের মৌসুমে গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকায় ভিড় বেশি ছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের গুল প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানের গুল প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স |সংগৃহীত

পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী বলে পরিচিত করাচির অন্যতম ব্যস্ত শপিং কমপ্লেক্স গুল প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার প্লাজাটির মেজানাইন ফ্লোরের একটি দোকান থেকেই ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।

করাচি দক্ষিণ রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা গণমাধ্যমকে জানান, মেজানাইন ফ্লোরের ‘দুবাই ক্রোকারিজ’ নামক একটি ভস্মীভূত দোকান থেকে ৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, সব মিলিয়ে এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পরই নিহতের সংখ্যা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি বলেন, নিখোঁজদের আত্মীয়স্বজন এবং দোকানদাররা আগে থেকেই দোকানে বিপুল সংখ্যক লোক থাকার কথা উল্লেখ করেছিল। নিহতদের সাথে শেষ যোগাযোগ অনুসারে তাদের ধারণা ছিল সেখানে তারা নিরাপদ থাকবেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধে তাদের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ জানান, বিয়ের মৌসুম উপলক্ষে ওই ক্রোকারিজের দোকানে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। সাধারণত রাত ১০টায় দোকানটি বন্ধ হওয়ার কথা থাকলেও ওইদিন রাত ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এ কারণেই সেখানে অনেক মানুষের ভিড় ছিল।

গত শনিবার রাতে এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত এই প্লাজাটিতে আগুন লাগে। প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকান বিশিষ্ট এই বিশাল ভবনের আগুন রোববার নিয়ন্ত্রণে আসার কথা বলা হলেও সোমবার আবারো ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। আগুনের প্রচণ্ড তাপে ভবনের কিছু অংশ ধসে পড়েছে।

সূত্র : ডন