জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তান

ভারতের পানি নীতি ২৪ কোটি মানুষের অস্তিত্বকে হুমকিতে ফেলছে

জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন বলেন, ‘এটি মানবাধিকার আইন, চুক্তি আইন ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন
জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন |সংগৃহীত

ভারত অধিকৃত পেহেলগামের হামলাকে কেন্দ্র করে সিন্ধু নদের পানি চুক্তি স্থগিত করায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত মন্তব্য করছে। এমন অবস্থায় পাকিস্তান সিন্ধু চুক্তি স্থগিতে জাতিসঙ্ঘকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তে সিন্ধু নদের পানি চুক্তি স্থগিত করা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ফলে ২৪ কোটি মানুষের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।

রোববার (২৫ মে) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সশস্ত্র সংঘাতে পানি রক্ষা-সংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘের এক সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে পাকিস্তান বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে মানবিক বিপর্যয় বা অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করার আগেই পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

স্লোভেনিয়ার আয়োজিত আরিয়া ফর্মুলা বৈঠকে জাতিসঙ্ঘে পাকিস্তানের ডেপুটি স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত উসমান জাদুন বলেন, ‘এটি মানবাধিকার আইন, চুক্তি আইন ও প্রথাগত আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তি স্থগিত রাখতে ভারতের বেআইনি ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভারতকে তার আইনি বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার এবং পাকিস্তানের ২৪ কোটি মানুষের জীবনরেখা হিসেবে বিবেচিত নদীগুলোকে বন্ধ, অন্যদিকে প্রবাহিত করা বা সীমাবদ্ধ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। আমরা কখনোই এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ মেনে নেব না।’

পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ভারতের কিছু রাজনৈতিক নেতার উদ্বেগজনক বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, ‘পাকিস্তানের জনগণকে অনাহারে রাখার মতো বক্তব্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং বিকৃত চিন্তাভাবনার পরিচয় দেয়।’

তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে এই ইস্যুতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচিত এমন পরিস্থিতিগুলোর ওপর নজর রাখা, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে বা মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’

পাকিস্তানের এ দিনের বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে, পানি সম্পদ বা এর পরিকাঠামোতে আক্রমণ নিষিদ্ধ এবং পানি সরবরাহ বন্ধ করা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। সব পক্ষকে এমন সব পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে হবে, যা মানবিক বিপর্যয় ঘটাতে পারে। পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাটা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর ফলে অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।

উসমান জাদুন বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে একটি দেশ পানিকে এখন কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।’