নেপালে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে

নেপালে আজ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার নতুন সরকার নির্বাচনের জন্য ভোট দিচ্ছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

হিমালয় কন্যা নেপালে আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী আন্দোলনের মুখে নেপালের তৎকালীন সরকার পতনের ছয় মাস পর দেশটিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে কারা ক্ষমতায় আসবে, তা নির্ধারণে আজ ভোট দিচ্ছেন দেশটির প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেপি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন নেপাল সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল ওই দেশের জেন জি। আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী ওলির পদত্যাগের পরে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কি।

১৯৯০ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে নেপালে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি। নেপালে এবারো একটি শক্তিশালী সরকার গঠনের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

২০২৫ সালের নেপালের জেন জি আন্দোলন নেপালে স্থিতিশীল সরকার গঠনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের মনোহর পারিক্কর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিস থেকে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণ রিপোর্টে ওই সংস্থার গবেষক নীহার আর নায়েক বলেছেন, ‘নেপালে কোনো পার্টিরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার সম্ভাবনা খুব কম।’

নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের পরে ১৬৫টি আসন থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করতে তারা বদ্ধপরিকর।

নির্বাচনে প্রধান প্রার্থী কারা?

১৯৯০ সালের রাজতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনের পর থেকে নেপাল মোট ৩২টি সরকারের শাসনামল দেখেছে। কিন্তু দেশে স্থিতিশীল সরকার তৈরি হয়নি।

নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউনাইটেড মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা ইউএমএল)-এর ক্রমবর্ধমান চীন-ঘনিষ্ঠতা ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে বার বার।

অন্যদিকে, যে বালেন্দ্র শাহের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছে জেন জি, তিনিও বার বার নিজেকে আদর্শগতভাবে ভারত-বিরোধী বলে প্রচার করেছেন।

কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ জেন জি আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে নজরে আসেন।

এক সময় তিনি ছিলেন পেশায় গায়ক ও ব়্যাপ আর্টিস্ট। তার গানের বড় অংশ-জুড়ে ছিল যুবসমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও হতাশার গল্প।

‘বালেন’ নামে বেশি পরিচিত এই সাবেক র‍্যাপার এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির বিরুদ্ধে। তিনি যে আসনে লড়ছেন সেই ঝাপা-৫ ওলির গড় বলেও পরিচিত।

একমাত্র ২০০৮ সালের নির্বাচন বাদ দিলে ঝাপা-৫ আসনে ১৯৯১ সাল থেকে এক টানা জয়ী হয়েছেন কে পি শর্মা ওলি।

গত সেপ্টেম্বর দীর্ঘদিনের দুর্নীতি এবং সামাজিক বৈষম্য নিয়ে জেন জি-র মধ্যে জনরোষ বাড়তে থাকায় প্রবল আন্দোলনের মুখে ওলি এবং তার সরকার পদত্যাগ করে।

বালেন শাহ প্রতিনিধিত্ব করছেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-কে, যা ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবার দলটি আগের তুলনায় অনেক ভালো ফল করতে পারে। বালেন শাহকে ইতোমধ্যেই আরএসপির সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে ওলির দল নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল), যারা গত নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেয়েছিল।

আন্দোলনের মাধ্যমে ওলিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলেও তার দলের দীর্ঘদিন ধরে নেপালে সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্যদিকে, নেপালি কংগ্রেসও একটি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, যারা ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে তাদের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

এর আগে এই পদে ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা।

এছাড়াও নির্বাচনের দৌড়ে রয়েছেন সাবেক মাওবাদী নেতা তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল ওরফে ‘প্রচণ্ড’-র নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)।

সূত্র : এএফপি ও বিবিসি