মুখোমুখি উত্তর-দক্ষিণ কোরিয়া

সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন কিম: ট্রাম্প

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, কিম তার সাথে পুনরায় যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি দিয়েছেন।’ এর বাইরে আর কোনো তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সামরিক উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পুনরায় আলোচনায় বসার প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কিমের পক্ষ থেকে কী ধরনের সাড়া এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, কিম তার সাথে পুনরায় যোগাযোগের উদ্যোগে সাড়া দিয়েছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি দিয়েছেন।’ এর বাইরে আর কোনো তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের এক দিন আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে। তাই দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে নিয়মিত সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন।

ট্রাম্প সামরিক মহড়ার উচ্চ ব্যয়ের কথাও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মহড়া চলবে।

আবারো কি ট্রাম্প-কিম বৈঠক?
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে তার আগ্রহ প্রথম মেয়াদের তুলনায় তুলনামূলক কম দৃশ্যমান ছিল। তবে কিমের সাথে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার আগ্রহ তিনি একাধিকবার জানিয়েছেন।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে নজিরবিহীন কূটনৈতিক যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই নেতা তিনবার বৈঠক করেন। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি।

২০১৯ সালের পর দুই দেশের সম্পর্ক আবারো দূরত্বে চলে যায়। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া ও চীনের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কও আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের কারণে এবার কিমকে আলোচনার টেবিলে ফেরানো আগের চেয়ে কঠিন হতে পারে। তবে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক কিমের জন্য আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক সুবিধা তৈরির সুযোগও এনে দিতে পারে।

রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা বড় বাধা
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এবং দেশটি মস্কোকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় কিমের সাথে ট্রাম্পের সম্ভাব্য নতুন আলোচনা শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পের সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তে দক্ষিণ কোরিয়াতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরুর সম্ভাবনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যৌথ মহড়া কমিয়ে দিলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতি ও সমন্বয় দুর্বল হতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অবশ্য নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়াকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে নয়।

সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পিয়ংইয়ং
বিশ্লেষকদের ধারণা, ট্রাম্পের উদ্যোগে কিম তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারেন। পিয়ংইয়ং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সময় বেছে নিতে পারে।

তবে ট্রাম্প-কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অতীত বিবেচনায় দুই নেতার মধ্যে আবারও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। ট্রাম্পও কিমের সাথে তার সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার নেতা সবসময় তার সাথে সম্মানের সাথে আচরণ করেছেন।

ফলে কিমের সাড়া দেয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি যদি আনুষ্ঠানিক আলোচনায় রূপ নেয়, তাহলে ২০১৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে এবার সেই আলোচনার পটভূমি আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল—উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাশিয়ার সাথে সামরিক ঘনিষ্ঠতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া জোটের ভবিষ্যৎ—সবকিছুই আলোচনার টেবিলে প্রভাব ফেলবে।

সূত্র : রয়টার্স