কালো তালিকাভুক্ত করায় পেন্টাগনের বিরুদ্ধে আলিবাবার মামলা

চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কালো তালিকাভুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আলিবাবা
আলিবাবা |সংগৃহীত

চীনের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা গ্রুপকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে কালো তালিকাভুক্ত করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আলিবাবা বলছে, এই তকমা দেয়াটা স্বেচ্ছাচারী এবং এতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, গত সোমবার সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে এ ঘটনায় মামলা করা হয়। আলিবাবার দাবি, পেন্টাগনের ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই।

গত ৮ জুন পেন্টাগন ৮০টি কোম্পানি ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটি নতুন কালো তালিকা প্রকাশ করে। এগুলো চীনা সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করছে বলে দাবি করা হয়।

ওই তালিকায় প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ও বাইদু এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতা বিওয়াইডি-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর এসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি বা তাদের নিয়ন্ত্রিত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে নতুন কোনো চুক্তি করতে পারবে না।

মামলায় বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানিগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে লবিং ফার্ম নিয়োগের সক্ষমতাও সীমিত হয়ে যাচ্ছে, এতে মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী (ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট) লঙ্ঘন হচ্ছে বলে দাবি আলিবাবার।

আলিবাবা জানায়, এই পদক্ষেপের বাস্তব প্রভাব ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে কাজ করছিলেন, সেই লবিং প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন তারা আর এ কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না।

মামলায় আলিবাবা আরো উল্লেখ করেছে, এটি একটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ই-কমার্স ও ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, যার শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান- যেমন জেপি মরগ্যান, সিটিগ্রুপ ও ব্ল্যাকরক।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাবে সোমবার চীন ১০টি মার্কিন কোম্পানির ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। এসব কোম্পানি প্রতিরক্ষা ও বিরল খনিজ উত্তোলন খাতে যুক্ত।

চীনের এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। গত মাসে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নতুন এই বিরোধে সেই প্রচেষ্টা চাপের মুখে পড়েছে।

সূত্র: বাসস