ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ‘ব্যাখ্যা’ দাবি উত্তর কোরিয়ার

ড্রোন অনুপ্রবেশের অভিযোগে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছে, যদিও সিউল সামরিক ড্রোন পাঠানোর কথা অস্বীকার করে দ্রুত তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ‘ব্যাখ্যা’ দাবি উত্তর কোরিয়ার
ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ‘ব্যাখ্যা’ দাবি উত্তর কোরিয়ার |সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়ে একটি বিস্তারিত ‘ব্যাখ্যা’ দাবি করেছেন। উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে একটি ড্রোন উড়িয়েছে।

আজ রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এমনটাই জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়া গতকাল শনিবার অভিযোগ করেছে, জানুয়ারির শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী কাউন্টি গাংহোয়া থেকে একটি ড্রোন উত্তর কোরিয়ার কায়েসং শহরে প্রবেশ করে। তারা দাবি করেছে, ওই ড্রোনটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং তার ধ্বংসাবশেষের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ড্রোনটি তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত কোনো মডেল নয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, ‘সৌভাগ্যবশত, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে একটি অবস্থান প্রকাশ করেছে যে এটি তাদের নিজস্ব কোনো কাজ নয় এবং আমাদের উসকানি বা বিরক্ত করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই।’

তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের প্রজাতন্ত্রের দক্ষিণ সীমান্ত অতিক্রম করা ওই ড্রোনের প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া উচিত।’

উত্তর কোরিয়ার অভিযোগের জবাবে সিউলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে তারা ‘উক্ত ধরনের কোনো মানববিহীন আকাশযান তাদের কাছে নেই এবং উত্তর কোরিয়া যে সময় ও তারিখ উল্লেখ করেছে সে সময়ে তারা কোনো চালকবিহীন আকাশযান পরিচালনাও করেনি।’

শনিবার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং যৌথ সামরিকু-পুলিশ তদন্ত দলের মাধ্যমে একটি ‘দ্রুত ও যথাযথ তদন্ত’ পরিচালনার নির্দেশ দেন।

বেসামরিক নাগরিকরা ড্রোনটি পরিচালনা করার সম্ভাবনা সম্পর্কে লি বলেছেন, ‘যদি সত্য হয়, তবে এটি একটি গুরুতর অপরাধ যা কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।’

তবে কিম বলেন, এটি সামরিক না বেসামরিক ড্রোন, সে বিষয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোনটি আমাদের দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

নতুন ড্রোন-সংক্রান্ত অভিযোগটি সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অবৈধভাবে ড্রোন অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে বিচার চলছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এমন পদক্ষেপ করেছিলেন যাতে পিয়ংইয়াংকে প্রতিক্রিয়া দেখাতে উসকানি দেয়া যায় এবং সাময়িক সামরিক আইন জারি করার তার স্বল্পমেয়াদী প্রচারের জন্য এটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

গত বছরের এপ্রিলে সামরিক আইন প্রয়োগের অভিযোগে ইউনকে অভিশংসিত এবং প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণ করা হয়।

সূত্র : বাসস