ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার দায়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা কওন সিয়ং-দংকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার এই রায় দেয়া হয়। ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা এ তথ্য জানায়। বিশেষ কৌঁসুলিরা কওনের বিরুদ্ধে চার বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ, তিনি গির্জাটির কাছ থেকে ১০ কোটি উন বা প্রায় ৭০ হাজার ডলার গ্রহণ করেছেন। তবে বিচারক তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কওন, ইউন ঘোষিত সামরিক আইনের জেরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় রক্ষণশীল পিপল পাওয়ার পার্টির সংসদীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিউল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
গত এপ্রিল মাসে ইউন ক্ষমতাচ্যুত হন। স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারির পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জুনে আকস্মিক নির্বাচনে ভোটাররা লি জে মিয়ংকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন।
কওনের সাজা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউন-এর স্ত্রী ও সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে একই চার্চের কাছ থেকে উপহার নেয়ার দায়ে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।
কিমের বিরুদ্ধে তদন্তের সূত্র ধরে ইউনিফিকেশন চার্চের নেতা হান হাক-জা’কেও গ্রেফতার করা হয়। গণবিয়ের জন্য পরিচিত এই চার্চ বিশ্বজুড়ে ১ কোটি অনুসারীর ও বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য পরিচালনার বলে দাবি করে।
এই ঘটনায় একটি বড় ধরনের কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে। বাম ও ডান—উভয় শিবিরের একাধিক রাজনীতিকের বিরুদ্ধে চার্চটির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত মাসে সমুদ্রবিষয়ক মন্ত্রী চুন জে-সু পদত্যাগ করেন। গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে চার্চটির কাছ থেকে তিন কোটি উন নগদ অর্থ ও দুটি বিলাসবহুল ঘড়ি গ্রহণ করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।



