ইহুদি নাগরিকদের ইসরাইল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। দলে দলে তাদের ইসরাইল ছাড়া এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়, তেল আবিবের গণমাধ্যমই এখন এই নজিরবিহীন পলায়নের কথা স্বীকার করছে। দিন দিন এই সংকট এতই তীব্র হচ্ছে যে, বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন ইসরাইলি কর্তাব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ (৬ আগস্ট) ইসরাইলি চ্যানেল ১২ টিভির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকৃত ফিলিস্তিন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি কতটা বেগতিক, তা উঠে এসেছে তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায়। ইসরাইলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত টানা তিন মাসের জন্য অধিকৃত ভূখণ্ড ছেড়ে চলে গেছেন মোট ২,৬৮,৯৩০ জন ইহুদি। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৬,৫০০, ২০২৪ সালে ৯১,৫০০ এবং ২০২৫ সালে তা ৯০,৯০ অতিক্রম করে। গত এক দশকের বার্ষিক গড় যেখানে ছিল মাত্র ৬০ হাজার, সেখানে হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, এই ধারা চলতে থাকলে ইসরাইলি সমাজের ভিত ভেঙে পড়বে। কারণ যারা ইসরাইল ছাড়ছেন, তাদের বড় অংশই চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও উচ্চ আয়ের মানুষ। একেই বলে 'মেধা পাচার' বা হিউম্যান ক্যাপিটালের ক্ষয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্বাস্থ্য খাত, অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর।
বিশ্লেষকদের সোজা কথা—বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভুল নীতিই মানুষকে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ করেছে এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে। চ্যানেল ১২-এর এক বিশ্লেষক কটাক্ষ করে বলেন, "নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ও পাপ হলো, তিনি মানুষদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য করেছেন।"
টাউব সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আসার চেয়ে যাওয়ার সংখ্যা ২৬ হাজার বেশি ছিল, যাকে বলে 'নেতিবাচক অভিবাসন'। আর ২০২৫ সালে এই ঘাটতি ৩৭ হাজারে ঠেকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে জন্ম নেওয়ার পর এই প্রথম ইসরাইলের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক শতাংশের নিচে নেমে গেছে।



