জর্দানে হামলার জবাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বংসী হামলা

মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র
মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র |সংগৃহীত

জর্দানে ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি-র হামলার জবাবে ইরানে পাল্টা শক্তিশালী সামরিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন পূর্ব সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা) এই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র আগ্রাসন শুরু হয়। ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কাজেমুন নগরীর লোকালয়ের কাছে এবং পারস্য উপসাগরের কিশ দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। তসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কিশ দ্বীপে বিকট দুটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেলেও দ্বীপটির বিমানবন্দর ও খেয়া পারাপার সেবা এখনো চালু রয়েছে।

একই সাথে হামলা চালানো হয়েছে আবাদান শহর এবং কিশম দ্বীপ সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে। হরমোজগান প্রদেশের উপ-গভর্নরের বরাতে মেহর নিউজ জানায়, স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টা) কিশম দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়। তসনিম নিউজ জানিয়েছে, কিশম দ্বীপের আবাসিক এলাকায়ও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে এবং সেখানে পরপর তিনটি বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। কৌশলগত হরমোজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই কিশম দ্বীপটি মূলত ইরানের আক্রমণাত্মক জলযান, ড্রোন ও সামুদ্রিক মাইনের অন্যতম বড় মজুত কেন্দ্র। আগ্রাসন বিরোধী যুদ্ধে এ সব ব্যবহার হয়।

ইরানের খুজেনস্তান প্রদেশের আবাদান শহরের চারপাশের এলাকাগুলোতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং অহওয়াজ শহরেও একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

অভিযানের মধ্যেই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, তেহরান সরকার চরম অর্থসংকটে পড়েছে এবং দেশটির মুদ্রাস্ফীতি শতভাগ ছাড়িয়েছে। তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো ইরানকে বৈশ্বিক বাণিজ্য পণবন্দি করতে কিংবা আইআরজিসি-র সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক দমনে আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহার করতে দেবে না।

এরই ধারাবাহিকতায় হরমোজ প্রণালী অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে জোরপূর্বক সামরিক বিমা কিনতে বাধ্য করার দায়ে আইআরজিসি সমর্থিত দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।