মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনাদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। সেনাদের পোস্ট করা ভিডিও ও ছবি দেখে ইরান তাদের ওপর হামলার নিখুঁত হিসাব কষে ফেলছে—এমন আশঙ্কার পরই এই সিদ্ধান্ত। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, ওই অঞ্চলে থাকা কিছু সেনার মোবাইল ফোন জব্দ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সূত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান এডমিরাল ব্র্যাড কুপার সেনাদের সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাধারণ সব পোস্ট দেখে ইরান নিমেষেই বুঝে যাচ্ছে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার প্রভাব কতটা মারাত্মক ছিল। যুদ্ধ চলাকালে এই তথ্য বের করা ইরানের জন্য বেশ কঠিন হতো। জর্দানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের এরই মধ্যেই জানানো হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে গোটা অঞ্চলে চিন্তাভাবনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে পরিবারের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা হাজার হাজার সেনা বড় ধরনের সমস্যায় পড়বেন। সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স অবশ্য বিষয়টিকে অপারেশনের গোপনীয়তা বজায় রাখার একটি সাধারণ অনুস্মারক বলে দাবি করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ১৭ জুলাই। জর্দানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় এক মার্কিন সেনা মেটা স্মার্ট চশমার বিল্ট-ইন ক্যামেরা দিয়ে সতীর্থদের বাঙ্কারে লুকিয়ে পড়ার দৃশ্য রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্সটাগ্রামে আপলোড করা হয়। ২৮ জুলাই এক চিঠিতে কুপার সতর্ক করে বলেন, মার্কিন বাহিনীর ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারে না তাদের ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে লেগেছে নাকি ৫০ মিটার দূরে খালি মাঠে পড়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা বিস্তারিত খবরের তালিকা বিনামূল্যে ইরানের 'ব্যাটেল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট' বা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষে দিচ্ছে।
কুপার হুঁশিয়ারি দেন, এই তথ্যের চড়া মাশুল মার্কিন সেনা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রাণ দিয়ে মেটাতে হতে পারে। কারণ ক্ষয়ক্ষতির খবর দেখতে পেলে ইরান আবারও সঠিক নিশানা মেপে ধ্বংসাত্মক দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানোর সবুজ সংকেত পেয়ে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান সংঘাতে ইতোমধ্যে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইন প্রণেতারাও পেন্টাগনের ওপর চাপ দিচ্ছেন ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করার জন্য। তবে মোবাইল ডেটা ও লোকেশন ট্র্যাক করে সেনাদলকে কীভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়, সে বিষয়ে পেন্টাগন বারবার তাদের বাহিনীকে সতর্ক করে আসছে।



