ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ৮

দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরাও রয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গতকাল মঙ্গলবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

নিহতদের মধ্যে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকর্মীরাও রয়েছেন। এছাড়া হামলায় লেবাননের সেনাবাহিনীর দুই সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর একটি বড় টানেল বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করেছে। টানেলটি হিজবুল্লাহর বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত যোদ্ধারা ব্যবহার করত।

গত মার্চের শুরু থেকে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। উভয়পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মাজদাল জোউন শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় প্রাথমিক হিসাবে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তিনজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। তারা উদ্ধারকাজ চালানোর সময় হামলার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে মারা যান।

মন্ত্রণালয় পরে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের জেবচিত শহরে ইসরাইলি হামলায় আরো দু’জন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, একটি টহলদলকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলায় তাদের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি শুরুর পর এই প্রথম সেনাবাহিনী তাদের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মাজদাল জোউন হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ইসরাইল বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন লঙ্ঘন করে চলেছে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো জানায়, জুয়াইয়া শহরে পৃথক আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু ও পাঁচজন নারী রয়েছেন।

এর আগে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে উত্তরের দিকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মঙ্গলবার এক বার্তায় দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে উত্তর দিকে, বিশেষ করে সিডন জেলার দিকে সরে যাওয়ার জরুরি নির্দেশ দেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইসরাইল দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং উল্লেখিত এলাকাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এসব স্থানের সবগুলোই ‘হলুদ রেখা’র বাইরে বা এর সীমানায় অবস্থিত বলে মনে হচ্ছে।

মঙ্গলবার তিনটি আলাদা ঘটনায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, যেখানে তাদের সেনা সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছিল, সেখানে তারা আকাশে একটি সন্দেহজনক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। তবে সেটি কী ছিল, তা জানানো হয়নি।

এছাড়া হিজবুল্লাহ বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছে, যা ইসরাইলি সেনাদের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আগের দিন একই ধরনের ড্রোন হামলায় একজন ইসরাইলি সেনা গুরুতর আহত এবং আরেকজন সামান্য আহত হন।

গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলের দিকে রকেট ছোড়ে। এর মাধ্যমে তারা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

সূত্র : বাসস