ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ছোড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি নারী এবং ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে এক বিদেশী শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) চিকিৎসকরা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জেরুসালেম থেকে খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, বুধবার গভীর রাতে হেবরনের কাছে বেইত আউয়া শহরে একটি হেয়ার সেলুনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। এতে করে সেখানে তিন নারী নিহত হন।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইরানি হামলায় এটিই প্রথম ফিলিস্তিনি মৃত্যুর ঘটনা।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী মাইস গাজি মাসালমেহ রয়েছেন।
রেড ক্রিসেন্ট জানায়, এই হামলায় আরো অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওয়াফা জানায়, সেলুনটি একটি বাড়ির পাশে ধাতব কাঠামোর ক্যারাভানে স্থাপন করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, ইসরাইলের সেনাবাহিনী নতুন করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানানোর পর হেবরন শহরসহ ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে।
এর কিছুক্ষণ পর ইসরাইলি চিকিৎসকরা জানান, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরাইলে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এতে চলমান যুদ্ধে ইসরাইলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
ইসরাইলের জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে নিহত ব্যক্তি একজন ‘বিদেশী শ্রমিক।’
দেশটির গণমাধ্যম জানায়, তিনি ছিলেন কৃষিখাতে কর্মরত একজন থাই নাগরিক।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে এক থাই কৃষি শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা জানায়, তেল আবিবের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ও পশ্চিম তীর থেকে আট কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত মোশাভ আদানিম শহরে তিনি নিহত হন।
ইসরাইলের স্বীকৃত জাতীয় জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড আদমের এক বিবৃতিতে সংস্থাটির চিকিৎসক ইদান শিনা বলেন, ঘটনাস্থলে ধাতব ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিল এবং ওই ব্যক্তিকে গুরুতর শেলের আঘাতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
এর আগে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরান থেকে ছোড়া এক দফা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে ও সেগুলোকে প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে।
এরপর থেকে সেনাবাহিনী আরও কয়েক দফা ইরানি হামলার কথা জানায়। এতে ইসরাইলের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ও পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
ইরানের বিপ্লবী গার্ডস এক বিবৃতির ইরানের ফারস ও আইএসএনএ বার্তা সংস্থা জানায়, তারা ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায়, রাতভর কিছু হামলায় ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়।
ইরান ও ইসরাইল আগে পরস্পরের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক হামলা চালানোর পর থেকে যুদ্ধ শুরু হয়। পাল্টা হিসেবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
সূত্র : এএফপি/বাসস



