সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে গাজার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বানাতে চান ট্রাম্প

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে গাজার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বানাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার
সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার |সংগৃহীত

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে গাজার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বানাতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার ইসরাইলি গণমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রটি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আরবি কূটনৈতিক সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার আরব ও মুসলিম নেতাদের কাছে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি ২১টি ধারা উল্লেখ করেছেন। ধারাগুলোর ব্যাপারে মুসলিম ও আরব নেতারা সম্মতি প্রকাশ করলে দুই বছর ধরে চলমান এই গাজা যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের এক ফাঁকে মুসলিম নেতাদের এই প্রস্তাব দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে কনকর্ডিয়া ২৫ সম্মেলনে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরব ও মুসলিম নেতাদেরকে একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। সেখানে ২১টি ধারা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আশাবদী এবং বিশ্বাস করি যে আগামী কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো একটি সফলতা পেতে পারি।’ তবে তিনি এর বেশি কিছু বলেননি।

হারেৎজ জানিয়েছে, মার্কিন ওই প্রস্তাবনায় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে গাজার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান বানানোর প্রস্তাবনা রয়েছে। এছাড়া ওই প্রশাসনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীদারদের বাহিনী থাকবে, যারা গাজার সীমান্ত রক্ষা করবে। একইসাথে গাজার বিনির্মাণে তত্ত্বাবধান করবে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ওই প্রস্তাবনায় পরবর্তীয়তে গাজাকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে বলা হয়েছে। তবে এর জন্য কী পরিমাণ সময় লাগবে, সেটি বলা হয়নি।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, গাজার অন্তর্বর্তী সরকারে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সদস্যকে নেয়া হবে না।

গ্রিনিচ টাইম ১৭টা ৩০ পর্যন্ত হারেৎজের এই প্রতিবেদনের উপর মার্কিন কিংবা ইসরাইলি কোনো পক্ষই কোনো ধরনের মন্তব্য করেনি।

ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২ অবশ্যই ট্রাম্পের পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সূত্রে উল্লেখ করেছে যে জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনের ফাঁকে মুসলিম ও আরব নেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ট্রাম্প খুব দ্রুত গাজা যুদ্ধ শেষ করার উপর জোর দেন।

সূত্রটি প্রস্তাবনার মৌলিক ধারার বিষয়ে বলছে, এর মধ্যে রয়েছে, গাজায় অবশিষ্ট সকল ইসরাইলি বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। (যাদের মধ্যে ৪৮ জন জীবিত ও ২০ জন মৃত বলে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ধারণা) আর ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে গাজা উপত্যকা থেকে সরে যাবে।

গণমাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, ধারাতে যুদ্ধোত্তর গাজার একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে সেখানে হামাসের কোনো সদস্যকে নেয়া হবে না। এতে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নানা দেশের সেনাবাহিনী ও কিছু ফিলিস্তিনি নেতৃবর্গ থাকবেন। এমনিভাবে গাজাকে পুনর্নির্মাণের জন্য আরব ও মুসলিম বিশ্ব থেকে অর্থ সরবরাহের প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে।

ইসরাইলি সম্প্রচার মাধ্যমটি আরো জানিয়েছে, এই প্রস্তাবনার বাস্তবায়নে আরব ও মুসলিম নেতারা কিছু শর্তারোপ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু শর্ত হলো, গাজা বা পশ্চিমতীরের কোনো অংশকে নিজেদের ভূখণ্ডের সাথে না মেলাতে বাধ্য করা, গাজায় কোনো অবৈধ বসতি স্থাপন না করা, বাইতুল মাকদিস ভাঙ্গার ইসরাইলি কার্যক্রম বন্ধ করা এবং গাজায় খুবই দ্রুত মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি করা।

সূত্রটি জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন যে আগামী সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে তার একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি চুক্তির খসড়াটি নেতানিয়াহুর কাছে পেশ করবে এবং এর উপর তার সম্মতি আদায় করবেন।

সূত্রটি দু’টি ইসরাইলি সূত্রে উল্লেখ করেছে যে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রস্তাবনার বিষয়ে অবগত আছেন। তার আস্থাভাজন পরিকল্পনা মন্ত্রী রন ডার্মার এ বিষয়ে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং টনি ব্লেয়ারের সাথে সেগুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি