হরমুজ প্রণালীর কাছে তেলবাহী ট্যাংকারে ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের’ আঘাত

ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীর নিকটে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন লাগে, তবে কোনো হতাহত হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে, আর গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি নৌপথে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালী |সংগৃহীত

ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী সমুদ্রে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে সোমবার একটি ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন লেগে যায়। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও এ তথ্য জানায়।

ঘটনাটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন নৌপথগুলোর একটিতে ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা এবং স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও এ ঘটনা ঘটল।

যুক্তরাজ্য মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানায়, ঘটনাটি ওমানের লিমাহ থেকে আট নটিক্যাল মাইল পূর্বে ঘটেছে।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, ‘দক্ষিণমুখী একটি ট্যাংকারের বাম পাশে একটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন লাগে।’

সংস্থাটি জানায়, এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইউকেএমটিও আরো জানায়, ‘জাহাজগুলোকে সতর্কতার সাথে চলাচল করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য ইউকেএমটিওকে জানাতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।’ একইসাথে তারা জানায়, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালী উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সে সময় ইরান এই নৌপথ অবরোধ করে। কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়।

বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা নৌ-অবরোধ আরোপ করে। পরে তারা ইরানের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলাও চালায়।

গত মাসে সঙ্ঘাতের অবসান এবং এই কৌশলগত নৌপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর সমুদ্রপথে চলাচল আবার শুরু হয়।

তবে ইরান জানায়, যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতিতে আর ফেরা হবে না। তখন জাহাজগুলো অবাধে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারত।

তেহরান তাদের উপকূলঘেঁষা অনুমোদিত করিডরের বাইরে কোনো নৌপথ ব্যবহার না করতে সতর্ক করে দিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে এশিয়ায়, জ্বালানি রফতানির প্রধান সমুদ্রপথ হলো হরমুজ প্রণালী।

সূত্র : বাসস