ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলেন গাজাবাসী

যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে ঈদের দিনে ছিল না পশু কোরবানি, ছিল না নতুন জামা, বরং ছিল ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায়, খাদ্য সঙ্কট ও প্রিয়জন হারানোর বেদনা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ছবি : আল-জাজিরা

ইসরাইলি হামলায় প্রায় পুরো গাজা উপত্যকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন গাজাবাসী।

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইসরাইলি হামলায় গাজার অধিকাংশ মসজিদ আগেই ধ্বংস হয়েছে। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য তাদের কোনো জাঁকজমক ছিল না। গাজায় ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে ধ্বংসস্তূপ, রাস্তা ও স্কুলের খোলা জায়গায়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত এই ভূখণ্ডে ঈদের দিনে ছিল না পশু কোরবানি, ছিল না নতুন জামা, বরং ছিল ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায়, খাদ্য সঙ্কট ও প্রিয়জন হারানোর বেদনা।

এদিকে ঈদের দিনও ইসরাইলি হামলা থেকে রেহাই পায়নি গাজাবাসী। ঈদুল আজহার দিন সকালে গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ করেছে ইসরাইল। এতে ২০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইসরাইলি যুদ্ধবিমান দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে একাধিক অভিযান চালিয়েছে, অন্যদিকে ভারী কামান শহরের মধ্য, উত্তর এবং পূর্ব অংশে আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনারা এদিন উত্তর খান ইউনিসে একাধিক আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, ঈদের আগের দিন রাতে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি হামলায় শিশু, নারী ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজায় ঈদের সময় এমন নির্মম দৃশ্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে তিনটি ঈদ এভাবেই কেটেছে সেখানকার বাসিন্দাদের। আজ এ যুদ্ধের ৬০৮তম দিনে চতুর্থ ঈদের দিনটিও দুর্বিষহ হয়ে এসেছে তাদের জীবনে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪ হাজার ৭০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিভাগই নারী ও শিশু।